Dhaka , Thursday, 19 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রামগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শরীয়াতপুরের ডামুড্যায় সাইকেল-ট্রলির সংঘর্ষে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু স্বস্তির ঈদযাত্রা-যানজট কম, মুখে হাসি ঘরমুখো মানুষের ঈদকে ঘিরে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এতিমখানায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শরীয়তপুরে ১০১ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক সম্রাট সুমন শিকদার গ্রেফতার বিলাসপুরে গভীর রাতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসত ঘরে বোমা হামলা, করলেন ভাঙচুর শ্রীপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তার অর্থ বিতরণ রূপগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলাসহ ১২ মামলার আসামি গ্রেফতার ঈদ ঘিরে গুলিস্তানে নতুন নোটের রমরমা বাজার, বাড়তি দামেও ক্রেতার চাপ কলমাকান্দায় চার শহীদ পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল চরভদ্রাসনে বিএনপি’র রিশাদ বেগের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। তিন পুলিশ প্রত্যাহার রূপগঞ্জে ঈদকে ঘিরে ৩শ’ মাদকের স্পট সক্রিয়॥ বিপুল মাদকদ্রব্য মজুদ পুলিশের উপর হামলাসহ ১২ মামলার আসামি রূপগঞ্জে সন্ত্রাসী ফয়সাল গ্রেফতার রূপগঞ্জে এমপি দিপুর নির্দেশনায় ১০০০ হাজার দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ দক্ষিণ বঙ্গপসাগর উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আত্মসমর্পণকৃত ১২৭ জন আলোর পথের অভিযাত্রীদের মাঝে মহা-পরিচালক র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ বিজিবির ধাওয়ায় মালামাল ফেলে পালালো চোরাকারবারীরা: ঝাউরানী ও মোগলহাট সীমান্তে মাদক ও চিনি জব্দ মধুপুরে অসহায় পরিবারকে ঢেউটিন প্রদান চরভদ্রাসনে ছাত্রদলের শামীম রেজার উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ। কৃষি বিপ্লব ও মানবতার সেবায় ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু: লালমনিরহাটে বড়ুয়া খাল ও ১ টাকায় ঈদ বাজারের শুভ উদ্বোধন রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ০৯ জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার টাঙ্গাইলে ঈদ বাজারে ক্রেতা কম, বিপাকে ব্যবসায়ীরা ঝড়ের রাতে চরে আটকা লঞ্চ, ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার শতাধিক যাত্রী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল টাঙ্গাইলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন:- আমীরুল ইসলাম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলায় সরকারিভাবে সংগৃহীত যাকাত ফান্ড হতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে চেক বিতরণ মির্জাপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর ইটভাটায় যুবদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু ঈদ উপলক্ষে রেলপথে তীব্র ভিড়, আসন না পেয়ে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন মানুষ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগীর রূপগঞ্জে সাংবাদিকদের হুমকি-অপহরণে নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের উদ্বেগ

শরীয়তপুরে কাবিখা কাবিটা প্রকল্পে লুটপাট, প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হুমকি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:48:48 pm, Thursday, 15 January 2026
  • 119 বার পড়া হয়েছে

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ‎গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ আংশিক বা একেবারেই না করেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পুরো বিল ছাড় করেছেন।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব প্রকল্পে প্রতি এক লাখ টাকার বরাদ্দে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে কেটে রাখা হয়। ফলে বরাদ্দের বাকি অর্থ দিয়ে মানসম্মত কাজ করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় গণমাধ্যমকর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডল।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সব ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন গম এবং একই পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৩৯ টাকা। তবে এসব বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে অনেক প্রকল্পে কাজ হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, যেসব সড়কে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, সেসব সড়কের আশপাশের বাসিন্দারাই জানেন না কখন বা কীভাবে কাজ হয়েছে। অথচ অফিসের কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিল উত্তোলনও করা হয়েছে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, প্রতি এক লাখ টাকার কাজে পিআইও, উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ৩০ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকায় কীভাবে কাজ করব? এর বেশি কিছু বললে বিপদে পড়তে পারি।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গায়েন বাড়ির মসজিদ থেকে উত্তরের দোকান পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার টাকার গম বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস দাবি করছে, কাজ শেষ হওয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত পাঁচ বছরেও ওই সড়কে এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি।

‎একই চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আফা মোল্লা বাজার এলাকায়। ট্রলার ঘাট থেকে গিয়াস উদ্দিন প্রধানিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার গম বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, এ বছর সেখানে কোনো কাজই হয়নি। মাত্র একদিন দু’জন শ্রমিক ঘাস পরিষ্কার করে চলে যান। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। অথচ কাগজে দেখানো হয়েছে সড়ক পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন।

‎গায়েন বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মানিক গায়েন বলেন, গত ৩-৪ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। বর্ষাকালে আমাদের নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তা হলে তো নৌকা বানাতে দিতাম না।

‎আফা মোল্লা বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলি। যদি কাজ হতো, তাহলে নিশ্চয়ই দেখতাম। কাগজে অনেক কিছু হয়, বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই।

‎এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডল বলেন, বিল দেওয়ার নিয়ম আছে বলেই বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ না করে বিল দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের ছবি তুলে রাখেন এবং অফিস ত্যাগ করেন।

‎ভেদরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসান আহমেদ মোবাইলে বলেন, আমি একসঙ্গে দুইটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় সব প্রকল্প সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হয়নি। যদি কেউ কাজ না করে বিল নিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো আমি শুনেছি। যারা কাজ না করে বিল তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

শরীয়তপুরে কাবিখা কাবিটা প্রকল্পে লুটপাট, প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হুমকি

আপডেট সময় : 06:48:48 pm, Thursday, 15 January 2026

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ‎গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ আংশিক বা একেবারেই না করেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পুরো বিল ছাড় করেছেন।

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব প্রকল্পে প্রতি এক লাখ টাকার বরাদ্দে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে কেটে রাখা হয়। ফলে বরাদ্দের বাকি অর্থ দিয়ে মানসম্মত কাজ করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় গণমাধ্যমকর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডল।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সব ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫৩ টন গম এবং একই পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৩৯ টাকা। তবে এসব বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে অনেক প্রকল্পে কাজ হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, যেসব সড়কে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, সেসব সড়কের আশপাশের বাসিন্দারাই জানেন না কখন বা কীভাবে কাজ হয়েছে। অথচ অফিসের কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিল উত্তোলনও করা হয়েছে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, প্রতি এক লাখ টাকার কাজে পিআইও, উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ৩০ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকায় কীভাবে কাজ করব? এর বেশি কিছু বললে বিপদে পড়তে পারি।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গায়েন বাড়ির মসজিদ থেকে উত্তরের দোকান পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার টাকার গম বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস দাবি করছে, কাজ শেষ হওয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত পাঁচ বছরেও ওই সড়কে এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি।

‎একই চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আফা মোল্লা বাজার এলাকায়। ট্রলার ঘাট থেকে গিয়াস উদ্দিন প্রধানিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার গম বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, এ বছর সেখানে কোনো কাজই হয়নি। মাত্র একদিন দু’জন শ্রমিক ঘাস পরিষ্কার করে চলে যান। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। অথচ কাগজে দেখানো হয়েছে সড়ক পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন।

‎গায়েন বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মানিক গায়েন বলেন, গত ৩-৪ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। বর্ষাকালে আমাদের নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তা হলে তো নৌকা বানাতে দিতাম না।

‎আফা মোল্লা বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলি। যদি কাজ হতো, তাহলে নিশ্চয়ই দেখতাম। কাগজে অনেক কিছু হয়, বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই।

‎এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মন্ডল বলেন, বিল দেওয়ার নিয়ম আছে বলেই বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ না করে বিল দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের ছবি তুলে রাখেন এবং অফিস ত্যাগ করেন।

‎ভেদরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসান আহমেদ মোবাইলে বলেন, আমি একসঙ্গে দুইটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় সব প্রকল্প সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হয়নি। যদি কেউ কাজ না করে বিল নিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো আমি শুনেছি। যারা কাজ না করে বিল তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।