শওকত আলম, কক্সবাজার:
রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় এনজিওদের সক্ষমতাকে অবজ্ঞা করছে বলে অভিযোগ করেছে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি–এনজিও ফোরাম (CCNF)। মঙ্গলবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়—২০২৬–২০২৭ সালের জন্য UNHCR যে অংশীদার নির্বাচন করেছে, তা “বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং নীতিবিরোধী”।
২৫ নভেম্বর ২০২৫ ইং মঙ্গলবার ককসবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।
CCNF আরও জানায়, ২০২৫ সালে UNHCR-এর অংশীদারদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল স্থানীয় এনজিও। অথচ নতুন চক্রে এই হার শূন্য শতাংশে নেমে এসেছে। সংগঠনের দাবি—এই সিদ্ধান্ত UNHCR-এর নিজস্ব “লোকালাইজেশন গাইডলাইন”, “গ্র্যান্ড বার্গেইন ২০১৭” এবং “পার্টনারশিপ পলিসি ২০০৭”–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলনে CCNF অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো কক্সবাজারে স্থানীয় এনজিওদের সঙ্গে অংশীদার না হয়ে সরাসরি তহবিল সংগ্রহে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য—“INGO–গুলোর তহবিল সংগ্রহের জায়গা কক্সবাজার নয়; তাদের নিজ দেশে গিয়ে এই কাজ করা উচিত।”
সংগঠনটি আরও জানায়, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা আগমনের পর প্রথম সাড়াদানকারী ছিল স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় এনজিওসমূহ। তাদের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের জ্ঞান সবচেয়ে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে UNHCR স্থানীয় সক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করছে, যা CCNF “অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করে।
অবস্থানপত্রে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থায়ী নয়, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর নির্মাণ করতে হবে এবং এসব নকশা স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
এছাড়া CCNF জানায়, বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের জন্য অনুমোদিত ৭০০ মিলিয়ন ডলার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওদের কোনো ভূমিকা রাখেনি—যা তারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে আরও জানায়, উখিয়া–টেকনাফে প্রতিদিন ২৫ মিলিয়ন লিটারেরও বেশি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন স্থানীয় জনগণের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাম্পের পাশের ৩০০ একর নষ্ট জমিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষিযোগ্য করে তোলার প্রস্তাবও তারা তুলে ধরে।
CCNF-এর প্রধান দাবি UNHCR-এর ২০২৬–২০২৭ অংশীদার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বাতিল ও পুনর্বিবেচনা,বিশ্বব্যাংকের তহবিল ব্যবহারে স্থানীয় এনজিওদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা,রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী নয়, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর নির্মাণ,INGOs–দের তহবিল সংগ্রহ নিজ দেশে করা বাধ্যতামূলক করা,কক্সবাজারের বাইরে থেকে আসা এনজিওদের জন্য স্থানীয় এনজিওর সঙ্গে অংশীদারত্ব বাধ্যতামূলক করা।
সংবাদ সম্মেলনে CCNF শেষ বক্তব্যে মন্তব্য করে— “স্থানীয়দের অবমূল্যায়ন মানে স্থানীয় জনগণকে অবমূল্যায়ন। কক্সবাজারে মানবিক কার্যক্রম হবে স্থানীয় নেতৃত্বনির্ভর—এটাই আমাদের দাবি।”
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮