
চঞ্চল,
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় বিজিবির জোরালো হস্তক্ষেপে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে স্পট পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (০৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি আজ দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ‘প্রটেস্ট নোট’ প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে ব্যাটালিয়ন, সেক্টর এবং রিজিয়ন সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৪/৫-এস পিলার সংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এই পতাকা বৈঠকে বিজিবির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম, অর্ডন্যান্স। তাঁর সাথে বিজিবির একজন স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। বিএসএফের পক্ষে ভারতীয় ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সুনীল কুমার এবং ২ জন স্টাফ অফিসার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার ভোর রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ধবলগুড়ি বিওপির অধীনস্থ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। বিএসএফের দাবি, তারা তারকাঁটার বেড়া কাটার চেষ্টা করলে টহলরত সদস্যরা বাধা দেয়। এসময় চোরাকারবারীদের সাথে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা সরাসরি গুলি চালায়। এতে আলী হোসেন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
বৈঠকে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি একজন তালিকাভুক্ত চোরাচালানকারী ছিলেন এবং তারা বিএসএফ সদস্যকে আঘাত করায় আত্মরক্ষার্থে ফায়ার করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়ে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

























