
চঞ্চল,
মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম বিকাশ ও নগদের ওটিপি (OTP) জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি দুর্ধর্ষ আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত সোমবার (০৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলার শ্রীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদিতমারী উপজেলার মোঃ আরিফুল ইসলামকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভ্রান্ত করে তাঁর বিকাশ একাউন্টের ওটিপি কোড হাতিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে কৌশলে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা এবং নগদ একাউন্ট থেকে আরও ৫২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতারকরা আরিফুলের একাউন্ট ব্লক করে দেয় এবং তা খুলে দেওয়ার বিনিময়ে আরও ২৩ হাজার টাকা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে। এই ঘটনায় গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদিতমারী থানায় একটি মামলা (নং-১৬) দায়ের করা হলে পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান তদন্তের দায়িত্ব ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ সাদ আহম্মেদকে অর্পণ করেন।
তদন্তভার পাওয়ার পর লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটিকে শনাক্ত করে। ডিবি’র একটি চৌকস টিম মাগুরা জেলার শ্রীপুর পোস্ট অফিস গলির একটি বিকাশ/নগদ এজেন্ট দোকানের সামনে থেকে প্রথমে রুবেল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে ইউসুফ ও টিটু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয়-মোঃ রুবেল বিশ্বাস (২৮), পিতা- ইসলাম বিশ্বাস (হোলডাঙ্গা, শ্রীপুর, মাগুরা)। ইউসুফ মোল্লা (৫০), পিতা- মোঃ জামির উদ্দিন (চর মহেশপুর, শ্রীপুর, মাগুরা)। মোঃ টিটু মোল্লা (৩০), পিতা- মোঃ ইউসুফ মোল্লা (চর মহেশপুর, শ্রীপুর, মাগুরা)।
গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ভিভো (Vivo Y29) অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং নগদ ও বিকাশ একাউন্ট খোলাসহ মোট ৭টি মোবাইল সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই জালিয়াতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

























