
ফারহান ইসলাম, হিলি ও পাঁচবিবি প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, বেগুন,শসা, লেবু সহ ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পাঁচবিবি পৌর বাজার ও আশপাশের হাটগুলোতে রমজান উপলক্ষে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার করতে আসা বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন,
বর্তমানে বাজারের অবস্থা অত্যন্ত অস্থির। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি হলেও প্রশাসনের তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। আমরা সাধারণ ভোক্তারা চরম কষ্টে আছি। কাঁচাবাজারে সিন্ডিকেট রয়েছে বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আমরা যেন ন্যায্য দামে পণ্য ক্রয় করতে পারি, সে জন্য বাজার মনিটরিং আরও বাড়ানো জরুরি।
অপর ক্রেতা মোহাম্মদ দুলাল বলেন, রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি। আগে লেবু বিক্রি হতো ২০ থেকে ২৫ টাকা হালি, এখন তা ৬০ টাকা। শসা আগে ৩০ টাকা কেজি কিনেছি, বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বেগুন আগে ৪০ টাকা ছিল, এখন বেড়ে ৮০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এত দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের বাজার করতে সমস্যা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে কাজকর্মও কম, আয় নেই বললেই চলে আমরা অনেক কষ্টে আছি।
পাঁচবিবি বাজারের ব্যবসায়ী রেজওয়ান হোসেন ও আরিফুল ইসলাম বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের তারতম্যের কারণেই দাম বেড়েছে। রমজানের আগে শসা, লেবু ও বেগুনের দাম কম ছিল। রমজান শুরু হতেই চাহিদা বেড়েছে, ফলে দামও বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। তবে বাজারের সব পণ্যের দাম বাড়েনি বিশেষ করে লেবু, শসা, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম বেড়েছে।
তারা আরও বলেন, লেবুর মৌসুম না হওয়ায় সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে। রমজানে প্রায় প্রতিটি দোকানে বেগুনের চপ বিক্রি হয়, ফলে বেগুনের চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বেগুন পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। আগে বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেন, কাঁচামালে কেউ সিন্ডিকেট করতে পারে না। মাঠে পর্যাপ্ত উৎপাদন না হলে দাম বাড়বেই। উৎপাদন কম হলে প্রধানমন্ত্রীও দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বাজার মনিটরিং কমিটিকে সরাসরি বাজার পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পণ্য সঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকটের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























