
বিজয় চৌধুরী, ঢাকা:
রাজধানীর মিরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ডিভাইস ব্যবহারসহ ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকুএমভয় একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়োগ প্রত্যাশী গোষ্ঠী বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ-সমাবেশ ঘণ্টা খানেক স্থায়ী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তারা নিজেরা হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ‘প্রশ্নফাঁস চলবে না’ ও ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যার মূল বিষয়গুলো ছিল—
১. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা আয়োজন।
২. ঢাকাসহ সব পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল-ডিভাইস চেকিং ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখা নিশ্চিত করা।
৩. স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং একই দিনে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়ার শর্ত।
৪. গত বছরের প্রশ্নফাঁসের রেকর্ড থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়া।
৫. প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, দেশে ৯ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘ডিভাইস পার্টি’ নামে চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের ডিভাইস সরবরাহ করে উত্তর দেয়ার চেষ্টা চালায়। কিছু এলাকায় কক্ষ পরিদর্শকসহ অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
এর মধ্যেই র্যাব ও নিরাপত্তা বাহিনী টাঙ্গাইলে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে প্রতারণার সাথে জড়িত চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, এবং ঢাকায় একটি ঘটনায় পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর এই বিক্ষোভ পরিস্থিতি সরকারের নজরে নতুন করে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ আরও জোরদার করার দাবি করেছে।

























