
উৎপল রক্ষিত, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের ভালো ফলন হলেও শ্রমিক সংকটের কারনে শ্রমিকের মুজুরি ও ধানের দাম নিয়ে কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। কৃষকদের ঝড় বৃষ্টি নিয়ে চিন্তা থাকলে এ বছর অন্য বছরের তুলনায় আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে।কৃষকরা আশা করছে ফলে ধান উৎপাদনের লক্ষ মাএা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষকের ধান কাটা ও ধান মাড়াইয়ে জন্য শ্রমিকের মজুরি বেশী। একজন ধান কাটার শ্রমিকের এক দিনের মজুরি নয়শত থেকে এক হাজার টাকা। সেই সাথে শ্রমিককে তিন বেলা খাবার দিতে হয়। অনেক কৃষক শ্রমিকের মজুরি দিতে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকে উৎপাদন
খরচ বেড়ে যায়। ধানের উৎপাদন খরচ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
গাবচালা গ্রামের কৃষক সাহাবুল সিকদার জানান , অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার জন্য এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে কৃষকরা সরকারি তেমন কোন সহযোগিতা পায় না।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেশের বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য, খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হলে কৃষি ও কৃষকের গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকরা অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে।বেশির ভাগ কৃষকরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।বীজতলার উন্নত ও অধিক উৎপাদনশীল বীজ মান সম্মত সার, কীটনাশক,পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই।
লিয়াকত আলী জানান, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধানের রোগ বালাই কম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধানের কোন ক্ষতি না হওয়ায় কৃষকরা আনন্দে ধান ঘরে তুলছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারনে সার, কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি ও অতিমাত্রার খড়ার কারনে এ বছর শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় কৃষকের ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
সরেজমিনে কালিয়াকৈরে বোয়ালী, চাঁপাইর ,কোনদাঘাটা , কালিয়াদহ, দেওয়াইর, কান্দাপাড়া, গাছবাড়ী, ফুলবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কৃষকের ধান কাটা শেষের দিকে। এ এলাকায় বেশির ভাগ কৃষক জমিতে বিআর -২৯ জাতের ধানের জাত রোপন করে থাকে।
বোয়ালী ইউনিয়ন উপ- সহকারী কৃষি অফিসার মো. সোহরাব হোসেন জানান,
অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ও ধানের বড় ধরনের রোগবালাই না হওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলছেন। কৃষি অফিস থেকে আমরা বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ ও কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি।
কৃষকরা খাদ্যের যোগানের ব্যবস্হা করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে যাচ্ছে। এখন ধান কাটা, ধান মাড়াই ও ধান সংরক্ষণের কাজ চলছে। গ্রামের জনপদের বেশির ভাগ এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কর্তন, মাড়াই, ঝালাই ও গো- খাদ্য হিসেবে খড় কুটো শুকাতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষির আধুনিকতার ছোঁয়া এখনো প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে লাগেনি। ফলে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাবার কারনে কষকের ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কম হয়। আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে দিলে কৃষকের ফসল উৎপাদনের খরচ কম হবে। সরকারি ভাবে কৃষি যন্ত্র অধিক উৎপাদনশীল বীজ, সার ,কীটনাশক,স্বল্প মূল্যে কৃষকদের পৌঁছে দেওয়ার দাবী জানান কৃষকরা।