
আরিফ আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদক।।
বরিশালের পাইকারি কাঁচা বাজার সহ আশেপাশের বাজারের বিক্রেতারা গত ১০ আগস্ট থেকে স্বস্তিতে বেচাকেনা করছেন। শিক্ষার্থীরা এসে বাজার মনিটরিং ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেয়ায় এখন তারা ন্যায্যদামে পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানালেন একাধিক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা। তবে চিনি চাল- পিঁয়াজ ও আলুর দাম নিয়ে এখনো শংকা কাটেনি অন্যদিকে হঠাৎ করে ইলিশের আমদানি কমে যাওয়ায়- ইলিশ নিয়েও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিলেন বরিশালের মাছ ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে ও শুক্রবার সকালে বরিশালের বাজার ঘুরে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের চোখেমুখে দেখা গেছে উল্লাসের ছোঁয়া। প্রত্যেকেই বললেন, আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। এখন আর আমাদের কাছে কেউ এটা-ওটা বলে চাঁদা নিতে আসে না। মালামাল আনা-নেওয়ার পথে আগে সড়ক ও নদীপথে কয়েক জায়গায় চাঁদা দিতে হতো। এমনকি পুলিশও চাঁদাবাজি করেছে। যে কারণে ৫০ টাকা একটি পণ্য বাজারে আসতে আসতে ১০০ টাকা হয়েছে। এখন এই চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। ফলে ৫০ টাকার পণ্যটি পথখরচ যুক্ত হয়ে ৬০ টাকায় অনায়াসে বিক্রি করা যায় বলে জানান পাইকারি বাজারের বিক্রেতা জলিল মের্ধা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটল ৩০ টাকা এবং বটবটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেও এটা ছিলো ৪৫ ও ৬০ টাকা।
এসময় মধ্যরাতে জমে ওঠা বরিশালের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সোহরাব বলেন- সরকার যদি এখন জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ এর দাম কমিয়ে দেয় তাহলে সব পন্যের দাম আরো অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি চিনি পিঁয়াজ ও আলুর দাম কমানো খুবই জরুরী। সডকারকে তখন আর টিসিবি টানতে হবে না বলে জানান সোহরাবসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী।
সাধারণ ক্রেতাদের মুখেও শোনা গেল একই চাহিদার কথা। কয়েকজন ক্রেতা বললেন- এখনো ১১০ টাকায় পিঁয়াজ এবং ৬০ টাকা দরে আলু কিনতে হচ্ছে। ২৮ চাল কিনেছি ৫৫ টাকা কেজিতে। তারা এসময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষ করে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর দাবী জানান।
এদিকে পোর্ট রোড মাছ বাজারেও বিক্রেতারা বেশ খুশি। জানালেন- গত ১০ আগস্ট সর্বশেষ একদল এসে চাঁদা নিয়ে গেছে। দোকান ভেদে ৫০- ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হতো তাদের। গত ১০ আগস্ট থেকে তারা আর চাঁদা দেননা। ঐদিন শিক্ষার্থীরা এসে কাউকে এক টাকাও চাঁদা দিতে নিষেধ করেছেন।আবার বিএনপির নেতারাও এসে বলে গেছেন- তাদের কোনো নেতাকর্মিও চাঁদা চাইলে তাদের জানাতে। এই প্রথম আমরা খুব শান্তিতে ন্যায্য দামে মাছ বিক্রি করতে পারছি। এতোদিন আমরা যে চাঁদা রাজনৈতিক নেতাগো দিসি- তাতো মাছের দামের সাথে যুক্ত করে তুলে নিতাম। এতে আমরা সুখি ছিলাম না, মনে কষ্ট হতো বলে জানান মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদার জহির মিয়া- কাশেম ও আনিসসহ কয়েকজন।
এসময় জহিরসহ কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, হঠাৎ করে গতকাল থেকে বাজারে ইলিশের আমদানি কম হচ্ছে। কিছু একটা সমস্যা হয়েছে সাগরে। তাদের ধারনা- আমাদের জেলেদের সাগরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বা সাগর থেকে অন্যকেউ মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান বরিশালের মাছ ব্যবসায়ীরা।
তাদের বক্তব্যের সুত্র ধরে পটুয়াখালী ও পাথরঘাটার ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়- আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারেনা। তবে সাগরে কখনো কখনো ভারতীয় ট্রলার দেখেছেন তারা।
পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর মৎস আড়ৎদার এম ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- গত একসপ্তাহ ধরে সাগর খুবই উত্তাল। প্রচুর মাছ আছে সাগরে কিন্তু আবহাওয়ার কারণে ধরার উপায় নেই। সাহস করে আমাদের দুটি ট্রলার নেমেছিল সাগরে। কিন্তু অল্পসময়ের মধ্যেই ফিরে এসেছে আবার।
আর বরগুনা জেলার পাথরঘাটার জেলে শাহাবুদ্দিন বলেছেন, সাগরে আমাদের কোনো কোষ্টগার্ড নেই। এই খারাপ আবহাওয়ার ভিতরও ভারতীয় নৌবাহিনীর টহল দেখেছি আমরা। ওদের সাথে জেলেদের ট্রলারও রয়েছে। ওদের কোষ্টগার্ড বা নৌবাহিনীর ছত্রছায়ায় ভারতীয় জেলেরা এই খারাপ আবহাওয়ার ভিতরেও সাগরে মাছ ধরতে পারছে বলে জানান শাহাবুদ্দিন।

























