পাবনা প্রতিনিধি।।
পাবনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের গুলিবর্ষণে তিন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার -১১ আগস্ট- সকালে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী পাবনা সদর উপজেলার চর বলরামপুর গ্রামের নিহত শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামের বাবা দুলাল উদ্দিন মাস্টার।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -ওসি- রওশন আলী বলেন- ১০৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান। তবে মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান ওসি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে- মামলায় জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল- সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স-
পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান- সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মোশারফ হোসেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান মিন্টু- অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু- সাবেক প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ মাস্টার-
মোস্তাফিজুর রহমান সুইট- সরদার মিঠু আহমেদ- আনিসুজ্জামান দোলন- আব্দুল্লাহ আল বাবু ওরফে লক বাবু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিবলী সাদিক- জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আহমেদ শরীফ ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন- জেলা পরিষদ সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সোহেল-
পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন দুলাল- সাবেক সংসদ সদস্য প্রিন্সের পিএস ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান রকি- দোগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আলী হাসান- চরতারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান খান- গয়েশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মুতাই- জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ- সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্ত- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু- সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল্লাহসহ আরও অনেকে।
গুলিতে নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন পাবনা সদর উপজেলার হাজীরহাট বেতেপাড়া এলাকার মাহবুবুল হোসেন নিলয় -১৬- চর বলরামপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম -১৯-এবং একই গ্রামের ফাহিম হোসেন রাজ্জাক -১৭-।
৪ আগস্ট দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পাবনা শহরের ট্রাফিক মোড় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে তাঁদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন শিক্ষার্থী নিহত ও শতাধিক আহত হন।

























