Dhaka , Wednesday, 28 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৫ ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে জামায়াত ইসলাম ধর্ষণ,মাদক ও চাঁদাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন – এমপি খোকন তালুকদার ‎গাইবান্ধায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কালিয়াকৈরে বেতন ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, কারখানায় ভাঙচুর নেত্রকোনার পূর্বধলা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট—সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে ৬৪০ মিটার অবৈধ চায়না চাই জব্দ, আটক ৮ কাউখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র গুরুতর আহত, বরিশালে প্রেরণ মতলব উত্তরে এমপি জালাল উদ্দীনের উদ্যোগে এসএসসি-২০২৬ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কক্সবাজারের লিংক রোডে যাত্রীবাহী বাসে এসআরবি-১৫-এর অভিযান, ১৮ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাংবাদিকতায় এআইয়ের ব্যবহার সময়ের দাবি: সিআরএফ সভাপতি চট্টগ্রামে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ জেলা গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক উদ্ধারকৃত হারানো ১০৭টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে হস্তান্তর করলেন পুলিশ সুপার বরিশালে যুব ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক: প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ তৈরি এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে গুরুত্বারোপ ফরিদপুরে দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার ১ যুগ পূর্তিতে আলোচনা সভা ও কেক কেটে উৎসবমুখর আয়োজন। সিদ্ধিরগঞ্জে টিনশেড বাড়িতে আগুন, দুই গাভীর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও সমাবেশ পাইকগাছায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি; চার ফার্মেসিকে জরিমানা পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি রাজধানীতে আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কেন্দ্রীয় পর্ষদের শপথ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ‘ফ্রি অক্সিজেন সেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধন কক্সবাজার শহরে মাদক সেবনের দায়ে ৭ জনের কারাদণ্ড বিশ্বাস, ভক্তি, ঐতিহ্যের বন্ধন গোলয়া পাগল নাথের ১৬৪ তম মেলা অনুষ্ঠিত সাজেক সংকটে সমঝোতা আটকে মূল দাবিতে, অব্যাহত অবরোধ ​দিনাজপুরে বিজিবির অভিযান বিরল সীমান্তে ৭৫ হাজার টাকার ভারতীয় মদ উদ্ধার সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন যারা ‘পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও রাশমিকার সঙ্গে থাকব’ দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল কালিয়াকৈরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির কুটিরশিল্পের পণ্যে আকৃষ্ট চার দেশের রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সাজে চমক, শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না মেঘনা আলম

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও  লোকালয়ে তাকালে চোখে পড়ে শুধু  ভুট্রা আর ভুট্রা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:45:51 am, Tuesday, 19 March 2024
  • 209 বার পড়া হয়েছে

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও  লোকালয়ে তাকালে চোখে পড়ে শুধু  ভুট্রা আর ভুট্রা।।

সাদ্দাম আলী
নীলফামারী থেকে।।
উত্তরের জেলা নীলফামারীর কৃষকরা আমন ধান চাষ ছেড়ে ঝুঁকে পড়েছেন লাভজনক ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ফসল ভুট্টা চাষের দিকে। ভুট্টা চাষ এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বদলে দিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা।
ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টা গাছ ও সবুজপাতা উন্নতমানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি হিসেবে ভুট্টার গাছের রয়েছে বাড়তি চাহিদা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ। কৃষকরা কাজে ব্যস্ত। সবুজপাতায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। বোরো ধানের আবাদে খরচ বেশি হওয়ায় ভুট্টার চাষে বেশি আগ্রহ এঅঞ্চলের কৃষকদের।
এক সময় উত্তরের প্রতিটি লোকালয়ে তাকালে চোখে পড়ে শুধু ধান আর ধান।
ভুট্টা চাষে দ্বিগুণ লাভ পাওয়ায় নীলফামারী  জেলার বেশিরভাগ কৃষকরা ধানের আবাদ ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। নামমাত্র শ্রমে, সামান্য সার ও অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় শস্য ভাণ্ডারখ্যাত এ জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। 
এবার শীতের পরিমান বেশি হাওয়ায়, ভুট্টায় অধিক পোকার আক্রমনে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। তবে লাভ হবে বলে আশাবাদী তারা। জেলার চরাঞ্চলসহ উচু নিচু সকল ধরনের বেলে ও  দো-আঁশ মাটির মাঠজুড়ে শুধু ভূট্টার ক্ষেত নজরে পড়ে চারিদিকে।
কথা হয় টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের কৃষক আলীয়াজ রহমানের সাথে তিনি দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন বোরো ধানের চেয়ে ভুট্রার আবাদে অনেক লাভ তাই আমরা ভুট্রা চাষ করি।একই গ্রামের কৃষক ইসমাইল দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, আমাদের  প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১০-১২  হাজার টাকা, ভালো আবাদ হলে প্রতি বিঘা ফলন হয়  ৩৫-৪০ মণ ভুট্টা হয়। বর্তমানে ভুট্টার অবস্থা খুব ভালো, যদি ভালো দাম পাই তাহলে আশা করছি অনেক লাভবান হবো ।
পলাশ বাড়ী ইউনিয়নের রাম বাবু দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, আমাদের এই জমিগুলাতে ধান গম সব কিছুই অনেক ভালো আবাদ হয়। একসময় বোরো ধান আবাদ করতাম। ধানে রোগবালাই অনেক ধান আবাদে তেমন লাভ ও নেই তাই বর্তমানে বোরো ধান বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষ করছি। এবার ছয় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার মত হয়েছে। যদি ঠিকমত দাম পাই তাহলে আমার আশা করি দেড় লাখ টাকা থেকে দুই লাক্ষ টাকা আমি ভুট্টা বিক্রি করতে পারবো। ধানে এমন লাভ হয় না।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা  ধরা হয়ে ছিলে ২৬ হাজার ৬৫৫  হেক্টর জমিতে। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধি ও কৃষকের অধিক আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার জেলায় ভুট্টা চাষে অর্জন হয়েছে ২৮ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১.৩৬ মেট্রিক টন হারে জেলায় ভুট্টার মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে  ৩ লক্ষ ২হাজার ৮০১ মেট্রিক টন। 
ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ ৭০০-৮০০ টাকা। 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস. এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ ভুট্টা লাভজনক ফসল হওয়াতে কৃষকেরা এ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ তাদের নানানভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৫

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও  লোকালয়ে তাকালে চোখে পড়ে শুধু  ভুট্রা আর ভুট্রা।।

আপডেট সময় : 04:45:51 am, Tuesday, 19 March 2024
সাদ্দাম আলী
নীলফামারী থেকে।।
উত্তরের জেলা নীলফামারীর কৃষকরা আমন ধান চাষ ছেড়ে ঝুঁকে পড়েছেন লাভজনক ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ফসল ভুট্টা চাষের দিকে। ভুট্টা চাষ এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বদলে দিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা।
ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টা গাছ ও সবুজপাতা উন্নতমানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি হিসেবে ভুট্টার গাছের রয়েছে বাড়তি চাহিদা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ। কৃষকরা কাজে ব্যস্ত। সবুজপাতায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। বোরো ধানের আবাদে খরচ বেশি হওয়ায় ভুট্টার চাষে বেশি আগ্রহ এঅঞ্চলের কৃষকদের।
এক সময় উত্তরের প্রতিটি লোকালয়ে তাকালে চোখে পড়ে শুধু ধান আর ধান।
ভুট্টা চাষে দ্বিগুণ লাভ পাওয়ায় নীলফামারী  জেলার বেশিরভাগ কৃষকরা ধানের আবাদ ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। নামমাত্র শ্রমে, সামান্য সার ও অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় শস্য ভাণ্ডারখ্যাত এ জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। 
এবার শীতের পরিমান বেশি হাওয়ায়, ভুট্টায় অধিক পোকার আক্রমনে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। তবে লাভ হবে বলে আশাবাদী তারা। জেলার চরাঞ্চলসহ উচু নিচু সকল ধরনের বেলে ও  দো-আঁশ মাটির মাঠজুড়ে শুধু ভূট্টার ক্ষেত নজরে পড়ে চারিদিকে।
কথা হয় টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের কৃষক আলীয়াজ রহমানের সাথে তিনি দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন বোরো ধানের চেয়ে ভুট্রার আবাদে অনেক লাভ তাই আমরা ভুট্রা চাষ করি।একই গ্রামের কৃষক ইসমাইল দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, আমাদের  প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১০-১২  হাজার টাকা, ভালো আবাদ হলে প্রতি বিঘা ফলন হয়  ৩৫-৪০ মণ ভুট্টা হয়। বর্তমানে ভুট্টার অবস্থা খুব ভালো, যদি ভালো দাম পাই তাহলে আশা করছি অনেক লাভবান হবো ।
পলাশ বাড়ী ইউনিয়নের রাম বাবু দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, আমাদের এই জমিগুলাতে ধান গম সব কিছুই অনেক ভালো আবাদ হয়। একসময় বোরো ধান আবাদ করতাম। ধানে রোগবালাই অনেক ধান আবাদে তেমন লাভ ও নেই তাই বর্তমানে বোরো ধান বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষ করছি। এবার ছয় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার মত হয়েছে। যদি ঠিকমত দাম পাই তাহলে আমার আশা করি দেড় লাখ টাকা থেকে দুই লাক্ষ টাকা আমি ভুট্টা বিক্রি করতে পারবো। ধানে এমন লাভ হয় না।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা  ধরা হয়ে ছিলে ২৬ হাজার ৬৫৫  হেক্টর জমিতে। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধি ও কৃষকের অধিক আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার জেলায় ভুট্টা চাষে অর্জন হয়েছে ২৮ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১.৩৬ মেট্রিক টন হারে জেলায় ভুট্টার মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে  ৩ লক্ষ ২হাজার ৮০১ মেট্রিক টন। 
ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ ৭০০-৮০০ টাকা। 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস. এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ ভুট্টা লাভজনক ফসল হওয়াতে কৃষকেরা এ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ তাদের নানানভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছে।