সাদ্দাম আলী
নীলফামারী থেকে।।
উত্তরের জেলা নীলফামারীর কৃষকরা আমন ধান চাষ ছেড়ে ঝুঁকে পড়েছেন লাভজনক ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ফসল ভুট্টা চাষের দিকে। ভুট্টা চাষ এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বদলে দিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা।
ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টা গাছ ও সবুজপাতা উন্নতমানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি হিসেবে ভুট্টার গাছের রয়েছে বাড়তি চাহিদা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ। কৃষকরা কাজে ব্যস্ত। সবুজপাতায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। বোরো ধানের আবাদে খরচ বেশি হওয়ায় ভুট্টার চাষে বেশি আগ্রহ এঅঞ্চলের কৃষকদের।
এক সময় উত্তরের প্রতিটি লোকালয়ে তাকালে চোখে পড়ে শুধু ধান আর ধান।
ভুট্টা চাষে দ্বিগুণ লাভ পাওয়ায় নীলফামারী জেলার বেশিরভাগ কৃষকরা ধানের আবাদ ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। নামমাত্র শ্রমে, সামান্য সার ও অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় শস্য ভাণ্ডারখ্যাত এ জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
এবার শীতের পরিমান বেশি হাওয়ায়, ভুট্টায় অধিক পোকার আক্রমনে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। তবে লাভ হবে বলে আশাবাদী তারা। জেলার চরাঞ্চলসহ উচু নিচু সকল ধরনের বেলে ও দো-আঁশ মাটির মাঠজুড়ে শুধু ভূট্টার ক্ষেত নজরে পড়ে চারিদিকে।
কথা হয় টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের কৃষক আলীয়াজ রহমানের সাথে তিনি দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন বোরো ধানের চেয়ে ভুট্রার আবাদে অনেক লাভ তাই আমরা ভুট্রা চাষ করি।একই গ্রামের কৃষক ইসমাইল দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, আমাদের প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা, ভালো আবাদ হলে প্রতি বিঘা ফলন হয় ৩৫-৪০ মণ ভুট্টা হয়। বর্তমানে ভুট্টার অবস্থা খুব ভালো, যদি ভালো দাম পাই তাহলে আশা করছি অনেক লাভবান হবো ।
পলাশ বাড়ী ইউনিয়নের রাম বাবু দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, আমাদের এই জমিগুলাতে ধান গম সব কিছুই অনেক ভালো আবাদ হয়। একসময় বোরো ধান আবাদ করতাম। ধানে রোগবালাই অনেক ধান আবাদে তেমন লাভ ও নেই তাই বর্তমানে বোরো ধান বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষ করছি। এবার ছয় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার মত হয়েছে। যদি ঠিকমত দাম পাই তাহলে আমার আশা করি দেড় লাখ টাকা থেকে দুই লাক্ষ টাকা আমি ভুট্টা বিক্রি করতে পারবো। ধানে এমন লাভ হয় না।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়ে ছিলে ২৬ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধি ও কৃষকের অধিক আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার জেলায় ভুট্টা চাষে অর্জন হয়েছে ২৮ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১.৩৬ মেট্রিক টন হারে জেলায় ভুট্টার মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লক্ষ ২হাজার ৮০১ মেট্রিক টন।
ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ ৭০০-৮০০ টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস. এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ ভুট্টা লাভজনক ফসল হওয়াতে কৃষকেরা এ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ তাদের নানানভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছে।

























