
মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।।
গাজীপুরের মহানগরে গাছা থানার বগারটেক এলাকায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিক্ষক দম্পতি জিয়াউর রহমান ও জলি আক্তারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানাযায় , শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাইমিন দুপুরে মরদেহ দুটির ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এ চিহ্ন নতুন না পুরাতন তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে। এছাড়া তাদের পাকস্থলীতে কোনো বিষক্রিয়া আছে কী না তার কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুত্র জানায়, শিক্ষক দম্পতি যে প্রাইভেটকারে করে বাসায় ফিরছিলেন সেই গাড়ি থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি খাবার বক্সসহ (হটপট) কিছু সামগ্রী আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পুলিশ ওই প্রাইভেটকারটিও জব্ধ করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন (৫১) ও তার স্ত্রী আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জলি আক্তারের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন নিহতের স্বজনরা। তারা প্রতিদিন নিজেদের প্রাইভেটকারে স্কুল থেকে একসঙ্গে বাসায় ফিরতেন। কারটি জিয়াউর রহমান মামুন নিজেই চালাতেন। তাদের একমাত্র ছেলে এ কে এম তৌসিফুর রহমান মিরাজ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি জিয়াউর রহমানের আগের স্ত্রীর সন্তান। জিয়াউর-জলি দম্পতির কোনো সন্তান নেই।
এদিকে নিহত শিক্ষক দম্পতির ছেলে তৌসিফুর রহমান মিরাজ জানান, সবশেষ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে তার বাবার মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ওই সময়ই তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। এসময় মায়ের কণ্ঠ ভার ছিল। তারপর কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। ভোর রাতের দিকে গাছা থানার বগারটেক এলাকার হারবাইদ-বড়বাড়ি সড়কের ওপর তাদের প্রাইভেটকার দেখতে পেয়ে কাছে যান। এসময় চালকের আসনে বাবা ও পাশেই মাকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের প্রথমে তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরপর দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের মরদেহ গাছা থানায় নিয়ে আসেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করছে।

























