Dhaka , Tuesday, 16 July 2024
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
কোটা সংস্কার আন্দোলন- ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।। সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত।। দেবহাটার সরকারি কেবিএ কলেজ ও সোনালী ব্যাংক পিএলসির চুক্তি স্বাক্ষর।। দেবহাটায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ বিষয়ক সভা।। সন্ত্রাসী হাফিজর বহিষ্কার চান ইবি শিক্ষার্থীরা।। তিতাসে আ.লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা-গাউছিয়া ফের হকারদের দখলে।। মধ্য ভাদুর প্রাইমারি স্কুল নির্মান বন্ধে আদালতে মামলা- শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে।। কোটা বিরোধী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে নীলফামারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা।। মোংলা বন্দরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন চেয়ারম্যান।। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়- মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে আমি রাজাকার স্লোগান প্রতিবাদে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ।। গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে দুই জনকে জরিমানা।। শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসে ঈশ্বরদীতে ট্রেনে কেটে জামাইয়ের মৃত্যু।। পাবিপ্রবির হলে শিক্ষার্থীকে মেরে হাসপাতালে পাঠালেন ছাত্রলীগ নেতা।। বরগুনায় ২ কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক।। মধ্যরাতে হঠাৎ উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল ছেড়ে রাস্তায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল।। শেরপুরে জাতীয় পার্টির সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন।। দেবহাটায় যুবদের হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকরণ সভা।।  সুবর্ণচরে বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা অপরিচিত মুঠোফোন কলের সূত্র ধরে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন- গ্রেপ্তার ৩।। সদরপুরে মৃত্যুর ৫ দিন পর বাড়ি ফিরলেন তরুণী ১০ মাস পর কবর থেকে তোলা হল লাশ।। তিতাসে ধ্বসে পড়ে গেল ডাকবাংলোর সীমানা প্রাচীর।। রামগঞ্জ শিশুপার্কটি ধুধু মরুভূমি- উপরে ফিটফাট-ভিতরে ফাঁকা মাঠ।। রূপগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকাবাসীর মতবিনিময়।। তিতাসে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।। বই বিক্রি যার নেশা।। হারানো মোবাইল উদ্ধার করে বুঝিয়ে দিল মোংলা থানা পুলিশ।। কোটা সংস্কারে রাষ্ট্রপতি বরাবর পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি।। কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর- শিল্পমন্ত্রী।। রাজধানীর আশুলিয়ায় ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার- গ্রেপ্তার ১জন।। পাবনার এক চরমপন্থি নেতাকে রাজবাড়ীতে পিটিয়ে হত্যা।।

গাজীপুরে এক শিশুর ভিতর আরেক শিশু- অস্ত্রোপচার করে আলাদা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:31:41 am, Sunday, 7 July 2024
  • 28 বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরে এক শিশুর ভিতর আরেক শিশু- অস্ত্রোপচার করে আলাদা।।

অরবিন্দ রায়

স্টাফ রিপোর্টার।।

   

   

গাজীপুরে একটি শিশুর শরীরের মধ্যে আরেকটি শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিরল এ ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিকেবাড়ি  গ্রামে। ওই গ্রামের দরিদ্র ইমরান হোসেন সবুজ ও মরিয়ম আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৬  জুন শিশুটির জন্ম হয়।

শনিবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জনরা শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করে একত্রে থাকা ওই শিশুটিকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু-কিশোর বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে কয়েকজন সার্জন দীর্ঘ দুই ঘন্টা চেষ্টা করে শিশু দুইটিকে আলাদা করেছেন। যে শিশুটির দেহ থেকে অন্য একটি শিশুকে আলাদা করা হয়েছে ওই শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অপারেশনের সাথে জড়িত হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা জানান, একটি শিশুর দেহে আরেকটি শিশুর অবস্থানের মত এ ধরনের ঘটনা বিরল। এটি একটি জন্মগত সমস্যা যাহা সচরাচর ঘটে না। মেডিকেল বা ডাক্তারি পরিভাষায় এটা কে ফিটাস ইন ফিটু  শিশু বলা হয়। সাধারণত প্রতি ৫ লক্ষ শিশুর জন্য এ ধরনের একটি শিশু পাওয়া যেতে পারে। সারা বিশ্বজুড়ে এরকম ঘটনা ঘটেছে দুই শতেরও কম।

একটি শিশুর শরীরের ভেতর আরেকটি শিশুর অবস্থান এটা কিভাবে সম্ভব – এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং নবজাতক ও শিশু কিশোর বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাস জানান, মায়ের পেটে যখন বাচ্চা আসে অর্থাৎ অতি শুরুতে ডিম্ব নিষিদ্ধ হবার পর কোষ বিভাজন হতে হতে সাধারণভাবে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। কিন্তু কোষ বিভাজনের কোন এক পর্যায়ে যদি কোষগুলি সমান দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় তবে দুইটি জমজ বাচ্চার জন্ম হতে পারে। কিন্তু কোষগুলি অসমান দুই ভাগে ভাগ হলে বেশি কোষ যুক্ত ভাগ থেকে সাধারণত একটি সুস্থ পূর্ণাঙ্গ শিশুর জন্ম হয়।   কম কোষযুক্ত ভাগ থেকে অপর একটি বাচ্চা বড় হতে শুরু করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই বাচ্চাটির সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে তৈরি হয় না। এই বাচ্চাটি পরবর্তী সময়ে সুস্থ বাচ্চাটির শরীরের ভিতর ঢুকে পড়ে এবং বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ বাচ্চাটির দেহ থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহ করে। এই দ্বিতীয় বাচ্চাটিকেই বলা হয় ফিটাস ইন ফিটু।
চিকিৎসকরা   জানান- এই ফিটাস ইন ফিটু শিশুটির সাধারণত ব্রেন তৈরি হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের হাড় তৈরি হয়, ক্ষুদ্র আকারে হাত পা তৈরি হয় এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে তৈরি হয় না।
ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাস আরো জানান- শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে এই ফিটাস ইন ফিটু শিশুটির অবস্থান হয় সুস্থ শিশুটির পেটের ভিতর। বাকি ২০ ভাগ ক্ষেত্রে শিশুটির অবস্থান হতে পারে বুকের ভিতর- তলপেটে- মাথার ভিতর- মুখের ভিতর- অন্ডকোষের ঝুলির ভিতর অথবা পায়ুপথের পিছনে।
একসাথে এ ধরনের জমজ দুই শিশুকে প্যারাসাইটিক টুইন  বলা হয়। এদের মধ্যে  ফিটাস ইন ফিটু শিশুটি পূর্ণাঙ্গভাবে জন্ম না নিলেও শিশুর মধ্যে জীবনের অস্তিত্ব থাকে।
শনিবার হাসপাতালে অবস্থানরত
শিশুটির  পিতা ইমরান হোসেন সবুজ ও তার মা মরিয়ম আক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়- গর্ভকালীন সময়ে তারা বিষয়টি বুঝতে  পারেননি। সে সময় তারা স্থানীয়  ক্লিনিকে গিয়ে  আলট্রাসনোগ্রাম করালে তাদেরকে বলা হয় মেয়ে সন্তান জন্ম নিবে। কিন্তু  স্থানীয় মনিপুর বাজারের আল মদিনা  হাসপাতালে  সিজারিয়ান অপারেশন করে শিশুটির জন্ম হয়। তখন তারা  এ  ঘটনাটি দেখতে পান । দেখে প্রথমে কিছুটা বিচলিত হলেও পরবর্তীতে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ  ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ওই ডাক্তার তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।  কিন্তু গার্মেন্টস কর্মী দরিদ্র ইমরান শিশুটির অপারেশন করতে অনেক টাকা লাগবে মনে করে তার এক আত্মীয়ের পরামর্শে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাসের সাথে দেখা করে শিশুটি সার্বিক অবস্থা ও  তাদের পারিবারিক অবস্থার কথা জানান।  ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাস  শিশুটি দেখে নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের অন্যান্য সার্জনদের  সাথে পরামর্শ করে এই শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি হাসপাতালে  অপারেশনের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা প্রদান ও অবজারভেশন রাখা হয়।  শনিবার অপারেশন করে ফিটাস ইন ফিটু শিশুকে আলাদা করা হবে। সে অনুযায়ী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সহ অন্যান্য সবকিছু প্রস্তুত করে শনিবার সকাল  সাড়ে ৯ টায় তার অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়।  সাড়ে ১১টায় অস্ত্রোপচার  সফলভাবে শেষ হয়। অস্ত্রোপচারে ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাসের সাথে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশু সার্জারি বিভাগের সার্জন খাজা হাবিব সেলিম, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার শামসুল হুদা- সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মনিরুল ইসলাম, ডাক্তার মইনুল হোসেন চৌধুরী সহ ১০- ১২ জন ডাক্তার- নার্স এবং ওটি বয়  অংশ নেন।

   

অপারেশনের নেতৃত্বে থাকা ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাস  ফিটাস ইন ফিটু শিশুটি সম্পর্কে বলেন- এই শিশুটির অবস্থান ছিল মূল শিশুটির পায়ুপথের পিছনে কোমরের সাথে সংযুক্ত। এর ব্রেন ছিলনা এবং মেরুদন্ড ছিল না। তবে একটি পা ছিল বড় আরেকটি পা ছিল ছোট আকারের। বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ বাচ্চাটির দেহ থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহ করে এতদিন বেঁচে ছিল শিশুটি।
ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাস জানান- আমাদের হাসপাতাল এমনকি বাংলাদেশে এ ঘটনাটি  একটি বিরল ঘটনা। এর আগে একটি শিশুর মধ্যে আরেকটি শিশুর অপারেশন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও সিলেট মেডিকেল কলেজে হয়েছিল।  তাই আমরা আমাদের হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একটি জটিল অপারেশন করতে  আগ্রহী হই। আমরা সফলভাবে অপারেশনটি করতে সক্ষম হয়েছি।
শিশুটির বাবা সবুজ সফলভাবে অপারেশন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি একজন দরিদ্র মানুষ টাকা পয়সা তেমন নেই। তাই আমার দ্বারা এ ধরনের অপারেশন ঢাকায় কোন হসপিটালে করানো সম্ভব ছিল না। ডাক্তার শংকর স্যার যদি নিজে উদ্যোগ না নিতেন, তাহলে আমার জন্য অনেক সমস্যা হতো। তাই আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

কোটা সংস্কার আন্দোলন- ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।।

গাজীপুরে এক শিশুর ভিতর আরেক শিশু- অস্ত্রোপচার করে আলাদা।।

আপডেট সময় : 10:31:41 am, Sunday, 7 July 2024

অরবিন্দ রায়

স্টাফ রিপোর্টার।।

   

   

গাজীপুরে একটি শিশুর শরীরের মধ্যে আরেকটি শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিরল এ ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিকেবাড়ি  গ্রামে। ওই গ্রামের দরিদ্র ইমরান হোসেন সবুজ ও মরিয়ম আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৬  জুন শিশুটির জন্ম হয়।

শনিবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জনরা শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করে একত্রে থাকা ওই শিশুটিকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু-কিশোর বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে কয়েকজন সার্জন দীর্ঘ দুই ঘন্টা চেষ্টা করে শিশু দুইটিকে আলাদা করেছেন। যে শিশুটির দেহ থেকে অন্য একটি শিশুকে আলাদা করা হয়েছে ওই শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অপারেশনের সাথে জড়িত হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা জানান, একটি শিশুর দেহে আরেকটি শিশুর অবস্থানের মত এ ধরনের ঘটনা বিরল। এটি একটি জন্মগত সমস্যা যাহা সচরাচর ঘটে না। মেডিকেল বা ডাক্তারি পরিভাষায় এটা কে ফিটাস ইন ফিটু  শিশু বলা হয়। সাধারণত প্রতি ৫ লক্ষ শিশুর জন্য এ ধরনের একটি শিশু পাওয়া যেতে পারে। সারা বিশ্বজুড়ে এরকম ঘটনা ঘটেছে দুই শতেরও কম।

একটি শিশুর শরীরের ভেতর আরেকটি শিশুর অবস্থান এটা কিভাবে সম্ভব – এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং নবজাতক ও শিশু কিশোর বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাস জানান, মায়ের পেটে যখন বাচ্চা আসে অর্থাৎ অতি শুরুতে ডিম্ব নিষিদ্ধ হবার পর কোষ বিভাজন হতে হতে সাধারণভাবে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। কিন্তু কোষ বিভাজনের কোন এক পর্যায়ে যদি কোষগুলি সমান দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় তবে দুইটি জমজ বাচ্চার জন্ম হতে পারে। কিন্তু কোষগুলি অসমান দুই ভাগে ভাগ হলে বেশি কোষ যুক্ত ভাগ থেকে সাধারণত একটি সুস্থ পূর্ণাঙ্গ শিশুর জন্ম হয়।   কম কোষযুক্ত ভাগ থেকে অপর একটি বাচ্চা বড় হতে শুরু করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই বাচ্চাটির সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে তৈরি হয় না। এই বাচ্চাটি পরবর্তী সময়ে সুস্থ বাচ্চাটির শরীরের ভিতর ঢুকে পড়ে এবং বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ বাচ্চাটির দেহ থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহ করে। এই দ্বিতীয় বাচ্চাটিকেই বলা হয় ফিটাস ইন ফিটু।
চিকিৎসকরা   জানান- এই ফিটাস ইন ফিটু শিশুটির সাধারণত ব্রেন তৈরি হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের হাড় তৈরি হয়, ক্ষুদ্র আকারে হাত পা তৈরি হয় এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে তৈরি হয় না।
ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাস আরো জানান- শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে এই ফিটাস ইন ফিটু শিশুটির অবস্থান হয় সুস্থ শিশুটির পেটের ভিতর। বাকি ২০ ভাগ ক্ষেত্রে শিশুটির অবস্থান হতে পারে বুকের ভিতর- তলপেটে- মাথার ভিতর- মুখের ভিতর- অন্ডকোষের ঝুলির ভিতর অথবা পায়ুপথের পিছনে।
একসাথে এ ধরনের জমজ দুই শিশুকে প্যারাসাইটিক টুইন  বলা হয়। এদের মধ্যে  ফিটাস ইন ফিটু শিশুটি পূর্ণাঙ্গভাবে জন্ম না নিলেও শিশুর মধ্যে জীবনের অস্তিত্ব থাকে।
শনিবার হাসপাতালে অবস্থানরত
শিশুটির  পিতা ইমরান হোসেন সবুজ ও তার মা মরিয়ম আক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়- গর্ভকালীন সময়ে তারা বিষয়টি বুঝতে  পারেননি। সে সময় তারা স্থানীয়  ক্লিনিকে গিয়ে  আলট্রাসনোগ্রাম করালে তাদেরকে বলা হয় মেয়ে সন্তান জন্ম নিবে। কিন্তু  স্থানীয় মনিপুর বাজারের আল মদিনা  হাসপাতালে  সিজারিয়ান অপারেশন করে শিশুটির জন্ম হয়। তখন তারা  এ  ঘটনাটি দেখতে পান । দেখে প্রথমে কিছুটা বিচলিত হলেও পরবর্তীতে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ  ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ওই ডাক্তার তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।  কিন্তু গার্মেন্টস কর্মী দরিদ্র ইমরান শিশুটির অপারেশন করতে অনেক টাকা লাগবে মনে করে তার এক আত্মীয়ের পরামর্শে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাসের সাথে দেখা করে শিশুটি সার্বিক অবস্থা ও  তাদের পারিবারিক অবস্থার কথা জানান।  ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাস  শিশুটি দেখে নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের অন্যান্য সার্জনদের  সাথে পরামর্শ করে এই শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি হাসপাতালে  অপারেশনের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা প্রদান ও অবজারভেশন রাখা হয়।  শনিবার অপারেশন করে ফিটাস ইন ফিটু শিশুকে আলাদা করা হবে। সে অনুযায়ী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সহ অন্যান্য সবকিছু প্রস্তুত করে শনিবার সকাল  সাড়ে ৯ টায় তার অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়।  সাড়ে ১১টায় অস্ত্রোপচার  সফলভাবে শেষ হয়। অস্ত্রোপচারে ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাসের সাথে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশু সার্জারি বিভাগের সার্জন খাজা হাবিব সেলিম, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার শামসুল হুদা- সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মনিরুল ইসলাম, ডাক্তার মইনুল হোসেন চৌধুরী সহ ১০- ১২ জন ডাক্তার- নার্স এবং ওটি বয়  অংশ নেন।

   

অপারেশনের নেতৃত্বে থাকা ডাক্তার শঙ্কর চন্দ্র দাস  ফিটাস ইন ফিটু শিশুটি সম্পর্কে বলেন- এই শিশুটির অবস্থান ছিল মূল শিশুটির পায়ুপথের পিছনে কোমরের সাথে সংযুক্ত। এর ব্রেন ছিলনা এবং মেরুদন্ড ছিল না। তবে একটি পা ছিল বড় আরেকটি পা ছিল ছোট আকারের। বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ বাচ্চাটির দেহ থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহ করে এতদিন বেঁচে ছিল শিশুটি।
ডাক্তার শংকর চন্দ্র দাস জানান- আমাদের হাসপাতাল এমনকি বাংলাদেশে এ ঘটনাটি  একটি বিরল ঘটনা। এর আগে একটি শিশুর মধ্যে আরেকটি শিশুর অপারেশন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও সিলেট মেডিকেল কলেজে হয়েছিল।  তাই আমরা আমাদের হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একটি জটিল অপারেশন করতে  আগ্রহী হই। আমরা সফলভাবে অপারেশনটি করতে সক্ষম হয়েছি।
শিশুটির বাবা সবুজ সফলভাবে অপারেশন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি একজন দরিদ্র মানুষ টাকা পয়সা তেমন নেই। তাই আমার দ্বারা এ ধরনের অপারেশন ঢাকায় কোন হসপিটালে করানো সম্ভব ছিল না। ডাক্তার শংকর স্যার যদি নিজে উদ্যোগ না নিতেন, তাহলে আমার জন্য অনেক সমস্যা হতো। তাই আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।