নিউজ ডেস্ক,
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রাচীন মল্লিকপুর জামে মসজিদ অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার ঐতিহাসিক জৌলুস। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, মোগল আমলে নির্মিত এই নিদর্শন ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মসজিদটি নলছিটি পৌর শহরের নলছিটি-বরিশাল মহাসড়কের পাশে, কেন্দ্রীয় গোরস্থানের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এটি মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহজাদা শাহ সুজা এর উদ্যোগে ১৬৪৮ সালে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে মসজিদটির বয়স প্রায় ৩৭৮ বছর।
মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট, প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া, ৩২ ইঞ্চি পুরু দেয়াল চুন-সুড়কি দিয়ে তৈরি। এটি স্থানীয়ভাবে মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। মসজিদটির বর্তমান ইমাম মুফতি ইব্রাহিম গাজী জানান, মূল কক্ষে প্রায় ১৫–২০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, তবে তিন পাশে বারান্দা নির্মাণের ফলে এখন প্রায় শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙনের কারণে সুজাবাদ কেল্লার অনেক অংশ বিলীন হয়ে গেলেও এই মসজিদটি এখনো এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক। মুসল্লি তাজুল ইসলাম নান্না মোল্লা বলেন, "যথাযথ সংরক্ষণ না হলে এই প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংসের পথে চলে যেতে পারে।"
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক মোহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মল্লিকপুর মসজিদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত নয়। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ জরিপ করলে এর প্রকৃত ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণ সম্ভব হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে এটি মোগল আমলের নিদর্শন, দপ্তর সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮