Dhaka , Monday, 1 December 2025
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৭ম বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত এড. সাত্তার খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ঢাকা উত্তর বিএনপির দোয়া ও মিলাদ মাহফিল বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় রূপগঞ্জে শ্রমিকদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। চন্দনাইশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : অবৈধভাবে মাটি কাটায় ২ স্কেভেটর জব্দ নোয়াখালীতে সুদের টাকার জন্য ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার-১ বেগম জিয়ার আরোগ্য কামনায় লালমনিরহাটে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশেষ মোনাজাত খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পাইকগাছায় লটারির মাধ্যমে ৫টি প্যাকেজের ঠিকাদার চূড়ান্ত চবিতে চাকসুর উদ্যােগে “Clean Campus Day with CUCSU” কর্মসূচি পালন। কালিয়াকৈরে সফিপুরে বাজারে আগুনে পুড়ল ১০ দোকান নির্বাচনী দায়িত্বে দক্ষতা উন্নয়নে ১৪তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার পাইকগাছা পৌরসভার প্রশাসক মাহেরা নাজনীনের বিদায়ী সংবর্ধনা রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ॥ আলোচনা সভা ॥ বিএনপি ও যুবদলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত বীরত্ব ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি: বিমান বাহিনীর ৪০ সদস্য পেলেন শান্তিকালীন পদক ভেলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন রূপগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার কক্সবাজারে নবাগত পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের যোগদান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা কামনা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে সাতকানিয়ায় সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের বিক্ষোভে থমকে যায় যানচলাচল নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপারের যোগদান মাজার-দরগাহ ভাঙচুর ও বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান দশম গ্রেডের দাবিতে মধুপুরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি রামগঞ্জে ১শ গজের মধ্যে ৫ দোকানে চুরি: আতংকিত ব্যবসায়ীরা ৩ দফা দাবিতে রামগঞ্জে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্ম বিরতি বেগমগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে ২ঘন্টা কর্মবিরতি পালন ‎কিশোরগঞ্জে ভিপি সোহেল এর উদ্যোগে বি এন পি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজীপুরে নবমীবিহীত পূজার মধ্য দিয়ে  কাত্যায়নী পূজার সমাপ্তি  সাতকানিয়ায় যৌথ অভিযানে ২২ রোহিঙ্গা শ্রমিক আটক: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নোয়াখালীতে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় দোয়া চাইলেন বুলু ; মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নামাজরত অবস্থায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু ইয়াবা জব্দের ঘটনায় লুকোচুরি, র‌্যাব-১৫’র  তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি

২৫টি শুঁটকি খোলায় কাজ করেন দুই শতাধিক নারীর।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:37:49 pm, Monday, 2 December 2024
  • 136 বার পড়া হয়েছে

২৫টি শুঁটকি খোলায় কাজ করেন দুই শতাধিক নারীর।।

পাবনা প্রতিনিধি।।
   
  
পাবনার দুই উপজেলার ২৫টির বেশি শুঁটকি খোলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে দুই শতাধিক নারীর। উৎপাদিত শুঁটকির মধ্যে রয়েছে শোল- বোয়াল- পুঁটি- খলশে- চেলা- ট্যাংরা- টাকি- চাপিলা- বাইমসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ। এসব শুঁটকির বড় অংশ সৈয়দপুর থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যান। 
প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মজুরিতে শ্রমিককেরা কাজ করেন। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাস শুঁটকিখোলায় কাজ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন তাঁরা।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় ও শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান- পাবনা জেলা উত্তরাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য উৎপাদনকারী এলাকা। এর মধ্যে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার মাছ বেশ সুস্বাদু। বেড়ায় ৭টি ও সাঁথিয়ায় ১০টি বিল রয়েছে। 
এসব মাছের ওপর ভিত্তি করেই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২৫টি শুঁট কিখোলা। এসব শুঁটকিখোলা চালু থাকে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা প্রায় চার মাস।
এবার ১৬০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয় সাঁথিয়া- বেড়া- সুজানগর- চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন- চলনবিল- গাজনার বিলসহ ছোট-বড় বেশ কটি বিল রয়েছে। এসব বিলের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু। এ কারণে ভারতে পাবনার শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 
পাবনার মানুষ শুঁটকি খেতে তেমন পছন্দ করেন না- তাই জেলায় উৎপাদিত শুঁটকির ৯০ ভাগের বেশি ভারতসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়। শুঁটকি রপ্তানি সামনে রেখে জেলায় শুঁটকির উৎপাদন বাড়ছে।
বেড়ার জয়নগর, হরিরামপুর, কৈতলা; সাঁথিয়ার পারকরমজা, পুণ্ডুরিয়া, শামুকজানি, ঘুঘুদহ, বড়গ্রামসহ সাত-আটটি শুঁটকিখোলা ঘুরে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী। 
জয়নগর গ্রামের শুঁটকি খোলায় কর্মরত শাহানা খাতুন ও রোয়া খাতুন জানান, পাশেই তাঁদের বাড়ি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শুঁটকি খোলায় কাজ করে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে আয় হয়। এই আয় থেকে কেউ সঞ্চয় করছেন, কেউবা সংসারের নানা জিনিস কিনছেন। 
একটি শুঁটকিখোলার মালিক হযরত আলী বলেন, ‘আমার খোলায় সব মিলায়া ১৫ থেকে ১৬ জন কাজ করেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যাই ১০ থেকে ১২ জন। শুঁটকি মৌসুমের চার মাস তাঁরা এখানে টানা কাজ করেন।’
বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়ায় ১০টি ও সাঁথিয়ায় ১৫টি মিলিয়ে দুই উপজেলায় মোট ২৫টি বড় শুঁটকিখোলা রয়েছে। এবার বেড়া উপজেলায় ২৫ টন ও সাঁথিয়া উপজেলায় ৫০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগামের ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন শুঁটকিখোলায় এসে শুঁটকি কিনে নিয়ে যান। এখানকার শুঁটকির মান ভালো বলে ভারতের আসাম- মেঘালয়- পশ্চিমবঙ্গ এবং মালয়েশিয়া, দুবাইসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়।
ঘুরে দেখা গেছে-শুঁটকি খোলায় পুঁটি- চাঁদা- টাকি- শোল- বোয়াল- চাপিলা- কাকিলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হচ্ছে। খোলার মালিকেরা জানান- পুঁটি ও শোল মাছ সবচেয়ে বেশি শুঁটকি করা হয়। 
স্থানীয় জেলে অথবা মাছের আড়ত থেকে প্রতি কেজি পুঁটি মাছ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং শোল মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কেনা হয়। 
শুঁটকি করার পর পুঁটি শুঁটকি আকারভেদে ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং শোল শুঁটকি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বেড়া ও সাঁথিয়ায় উৎপাদিত বেশির ভাগ শুঁটকিই পাঠানো হয় সৈয়দপুর- ঢাকা ও চট্টগ্রামে। 
সেখান থেকে যায় বিদেশে। শুঁটকি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন- পাবনার সাঁথিয়া ও বেড়ার শুঁটকির মান বেশ ভালো। এর মধ্যে ভারতে রয়েছে পুঁটি শুঁটকির ভালো চাহিদা। তা ছাড়া আমরা মালয়েশিয়াতেও শুঁটকি পাঠাই।
সাঁথিয়ার পুণ্ডুরিয়া গ্রামে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি শুঁটকি খোলায় গিয়ে দেখা যায়, ১৪ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে শুঁটকি খোলার মালিক সাইফুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলাম ছিলেন। 
তাঁরা জানান, এই শুঁট কিখোলা সাঁথিয়া ও বেড়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়। আট বছর ধরে তাঁরা শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিন-চার মাসে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা দামের সাত-আট টন শুঁটকি উৎপাদিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। 
গত বছর এই শুঁটকিখোলা থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার আরও বেশি লাভের আশা করছেন তাঁরা।
বেড়া ও সাঁথিয়া দুই উপজেলারই মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন মো. নাসিরউদ্দিন। তিনি বলেন, বেড়া ও সাঁথিয়ার বিলগুলো মাছের জন্য বিখ্যাত। দুই উপজেলার শুঁটকির রয়েছে আলাদা সুনাম। 
এখানে উৎপাদিত শুঁটকির উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশেও রপ্তানি হয়। আর দুই উপজেলার শুঁটকিখোলায় অনেক নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৭ম বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত এড. সাত্তার

২৫টি শুঁটকি খোলায় কাজ করেন দুই শতাধিক নারীর।।

আপডেট সময় : 12:37:49 pm, Monday, 2 December 2024
পাবনা প্রতিনিধি।।
   
  
পাবনার দুই উপজেলার ২৫টির বেশি শুঁটকি খোলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে দুই শতাধিক নারীর। উৎপাদিত শুঁটকির মধ্যে রয়েছে শোল- বোয়াল- পুঁটি- খলশে- চেলা- ট্যাংরা- টাকি- চাপিলা- বাইমসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ। এসব শুঁটকির বড় অংশ সৈয়দপুর থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যান। 
প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মজুরিতে শ্রমিককেরা কাজ করেন। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাস শুঁটকিখোলায় কাজ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন তাঁরা।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় ও শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান- পাবনা জেলা উত্তরাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য উৎপাদনকারী এলাকা। এর মধ্যে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার মাছ বেশ সুস্বাদু। বেড়ায় ৭টি ও সাঁথিয়ায় ১০টি বিল রয়েছে। 
এসব মাছের ওপর ভিত্তি করেই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২৫টি শুঁট কিখোলা। এসব শুঁটকিখোলা চালু থাকে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা প্রায় চার মাস।
এবার ১৬০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয় সাঁথিয়া- বেড়া- সুজানগর- চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন- চলনবিল- গাজনার বিলসহ ছোট-বড় বেশ কটি বিল রয়েছে। এসব বিলের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু। এ কারণে ভারতে পাবনার শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 
পাবনার মানুষ শুঁটকি খেতে তেমন পছন্দ করেন না- তাই জেলায় উৎপাদিত শুঁটকির ৯০ ভাগের বেশি ভারতসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়। শুঁটকি রপ্তানি সামনে রেখে জেলায় শুঁটকির উৎপাদন বাড়ছে।
বেড়ার জয়নগর, হরিরামপুর, কৈতলা; সাঁথিয়ার পারকরমজা, পুণ্ডুরিয়া, শামুকজানি, ঘুঘুদহ, বড়গ্রামসহ সাত-আটটি শুঁটকিখোলা ঘুরে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী। 
জয়নগর গ্রামের শুঁটকি খোলায় কর্মরত শাহানা খাতুন ও রোয়া খাতুন জানান, পাশেই তাঁদের বাড়ি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শুঁটকি খোলায় কাজ করে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে আয় হয়। এই আয় থেকে কেউ সঞ্চয় করছেন, কেউবা সংসারের নানা জিনিস কিনছেন। 
একটি শুঁটকিখোলার মালিক হযরত আলী বলেন, ‘আমার খোলায় সব মিলায়া ১৫ থেকে ১৬ জন কাজ করেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যাই ১০ থেকে ১২ জন। শুঁটকি মৌসুমের চার মাস তাঁরা এখানে টানা কাজ করেন।’
বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়ায় ১০টি ও সাঁথিয়ায় ১৫টি মিলিয়ে দুই উপজেলায় মোট ২৫টি বড় শুঁটকিখোলা রয়েছে। এবার বেড়া উপজেলায় ২৫ টন ও সাঁথিয়া উপজেলায় ৫০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগামের ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন শুঁটকিখোলায় এসে শুঁটকি কিনে নিয়ে যান। এখানকার শুঁটকির মান ভালো বলে ভারতের আসাম- মেঘালয়- পশ্চিমবঙ্গ এবং মালয়েশিয়া, দুবাইসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়।
ঘুরে দেখা গেছে-শুঁটকি খোলায় পুঁটি- চাঁদা- টাকি- শোল- বোয়াল- চাপিলা- কাকিলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হচ্ছে। খোলার মালিকেরা জানান- পুঁটি ও শোল মাছ সবচেয়ে বেশি শুঁটকি করা হয়। 
স্থানীয় জেলে অথবা মাছের আড়ত থেকে প্রতি কেজি পুঁটি মাছ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং শোল মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কেনা হয়। 
শুঁটকি করার পর পুঁটি শুঁটকি আকারভেদে ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং শোল শুঁটকি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বেড়া ও সাঁথিয়ায় উৎপাদিত বেশির ভাগ শুঁটকিই পাঠানো হয় সৈয়দপুর- ঢাকা ও চট্টগ্রামে। 
সেখান থেকে যায় বিদেশে। শুঁটকি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন- পাবনার সাঁথিয়া ও বেড়ার শুঁটকির মান বেশ ভালো। এর মধ্যে ভারতে রয়েছে পুঁটি শুঁটকির ভালো চাহিদা। তা ছাড়া আমরা মালয়েশিয়াতেও শুঁটকি পাঠাই।
সাঁথিয়ার পুণ্ডুরিয়া গ্রামে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি শুঁটকি খোলায় গিয়ে দেখা যায়, ১৪ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে শুঁটকি খোলার মালিক সাইফুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলাম ছিলেন। 
তাঁরা জানান, এই শুঁট কিখোলা সাঁথিয়া ও বেড়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়। আট বছর ধরে তাঁরা শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিন-চার মাসে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা দামের সাত-আট টন শুঁটকি উৎপাদিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। 
গত বছর এই শুঁটকিখোলা থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার আরও বেশি লাভের আশা করছেন তাঁরা।
বেড়া ও সাঁথিয়া দুই উপজেলারই মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন মো. নাসিরউদ্দিন। তিনি বলেন, বেড়া ও সাঁথিয়ার বিলগুলো মাছের জন্য বিখ্যাত। দুই উপজেলার শুঁটকির রয়েছে আলাদা সুনাম। 
এখানে উৎপাদিত শুঁটকির উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশেও রপ্তানি হয়। আর দুই উপজেলার শুঁটকিখোলায় অনেক নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।