বিজয় চৌধুরী, ঢাকা
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই একাধিক পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মেহেদি হাসান রাসেল। কথাসাহিত্যিক, উদীয়মান লেখক, কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং তরুণ উদ্যোক্তা—প্রতিটি পরিচয়েই তিনি রেখে চলেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করলেও তার মন পড়ে আছে গল্প, ভাষা ও সৃজনশীলতার জগতে। সহপাঠীরা যখন কোডিংয়ের জটিল সমীকরণে ব্যস্ত, তখন রাসেল ব্যস্ত গল্প নির্মাণ, কনটেন্ট পরিকল্পনা এবং নতুন নতুন সৃজনশীল ভাবনায়।
বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিচিত মিডিয়া প্রোডাকশন হাউজ ফার্স্ট ফিল্ম-এ কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের নেপথ্যের কনটেন্ট পরিকল্পনা ও গল্প নির্মাণে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একই সঙ্গে প্রথাগত পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই, মাত্র চতুর্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত অবস্থায়, নিজের দক্ষতার মাধ্যমে একটি স্বনামধন্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ করে নিয়েছেন। সেই আয় দিয়েই নিজের জীবনযাত্রা পরিচালনার পাশাপাশি এগিয়ে নিচ্ছেন দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
শুধু চাকরিজীবনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি রাসেল। উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি এগিয়ে চলেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তার স্বপ্নের মাল্টিডাইমেনশনাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও বিজনেস ইকো-সিস্টেম ‘ক্রিপ্টন’ (Krypton)-এর একজন কো-ফাউন্ডার তিনি। বর্তমানে ক্রিপ্টনের অধীনে দুটি বিজনেস ভেঞ্চার দেশের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রাসেলের ভাষ্যমতে, এই দুটি ভেঞ্চারসহ বর্তমানে ক্রিপ্টনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৩৪ জন সদস্য।
ব্যস্ত কর্পোরেট জীবন, এজেন্সির কাজ এবং পড়াশোনার চাপের মধ্যেও থেমে নেই তার সাহিত্যচর্চা। বর্তমানে তিনি লিখছেন নিজের তৃতীয় বই এবং প্রথম উপন্যাস ‘অপার্থিব বিভ্রম’। সমকালীন এই উপন্যাসে উঠে আসবে মানসিক অসুস্থতা, মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং জটিল মানবিক অনুভূতির গল্প।
এর আগে পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে তার দুটি বই—‘ইচ্ছেমতী’ ও ‘অনিবার্য আর্তনাদ’। ২০২২ সালের অমর একুশে বইমেলায় সময়যুগ থেকে প্রকাশিত কবিতার বই ইচ্ছেমতী পাঠকদের কাছে ইতিবাচক সাড়া পায় এবং বর্তমানে রকমারি ও বইসদাইয়ে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে অনিবার্য আর্তনাদ গল্পগ্রন্থটি কবিতার দেয়াল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইটি বর্তমানে স্টক আউট হলেও পাঠকমহলে এটি লেখকের উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে পরিচিত।
জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার প্রসঙ্গে রাসেল জানান, ২০২৪ সালে তিনি তার বাবাকে হারান। বাবা ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং তার সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় বিশ্বাসী মানুষ। সেই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। তবে মায়ের অবিচল সমর্থন ও বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়বদ্ধতাই তাকে প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি এই তরুণ। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি নিজের শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। রাসেলের বিশ্বাস, জীবন যেমন সুন্দর, তেমনি সুন্দর মানুষের সম্ভাবনাও। আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি অটুট বিশ্বাস।
জীবনের প্রাপ্তি ও অনুপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও জানান, তার জীবনের পরিবর্তনের অন্যতম প্রেরণা হয়েছেন তার কাঙ্ক্ষিত একজন মানুষ। দুঃসময়ে যেভাবে তিনি পাশে থেকেছেন, তা রাসেলের কাছে অনন্য। তার মতে, প্রতিটি সম্ভাবনাময় তরুণের জীবনে এমন একজন মানুষের প্রয়োজন, যিনি কঠিন সময়ে বিশ্বাস দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগান।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সাহিত্য, কর্পোরেট ক্যারিয়ার এবং উদ্যোক্তা—তিনটি ভিন্ন অঙ্গনে সমানতালে পথচলা মেহেদি হাসান রাসেলের গল্প আজ অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। ব্যক্তিগত শোক, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়েও তিনি প্রমাণ করেছেন—স্বপ্ন যদি বড় হয়, পরিশ্রম যদি নিরন্তর হয় এবং নিজের ওপর বিশ্বাস অটুট থাকে, তবে বয়স কিংবা প্রতিকূলতা কখনোই সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮