চঞ্চল,
“যার যার ধর্ম সে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে—এটাই সরকারের দায়িত্ব। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে সকল অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে, সেই সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতেই আমি আপনাদের মাঝে ছুটে এসেছি।” আজ ২৭ মার্চ (শুক্রবার) সকালে লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি মেলার শুভ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মেলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও গত কয়েক বছরের দুর্দিন স্মরণ করে বলেন, “২০০ বছর আগে জমিদার আমলে শুরু হওয়া এই মেলা ঘিরে গত ১৭ বছর ধরে অরাজকতা, জুলুম, চাঁদাবাজি এবং অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানো হতো। যার ফলে পুণ্যার্থীরা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। গত বছর থেকে আমরা প্রশাসনের সহায়তায় এই কলঙ্কিত অধ্যায় বন্ধ করেছি।” তিনি আরও জানান, মেলাটিকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজি ও জুয়ামুক্ত রাখতে দুই জেলা প্রশাসনকে নিয়ে বিশেষ সমন্বয় সভা করা হয়েছে।
সিন্দুরমতি মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আমি জরুরি কাজে ক্যাবিনেট মিটিংয়ের কারণে ঢাকা গিয়েছিলাম। কিন্তু এই মেলার টানে এবং আপনাদের আয়োজনের সম্মানে গতকালই আবার ফিরে এসেছি। মেলা কেমন হচ্ছে, তা জানতে ঢাকা থেকে বারবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছি।” আগামীকাল তিনি আবারও রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকা ফিরে যাবেন বলে জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার, পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হাজার হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাচ্ছে গৃহস্থালি ও কৃষি সামগ্রী। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে কাঠের তৈরি আসবাবপত্র , কাস্তে, হাতুড়ি, খন্তা ও উরুন-গাইনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
রয়েছে বড় আকৃতির মাছ, দই, খৈ, মুড়ি-মুড়কি ও নানা রকমের মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার।
প্রায় ১৬.৫ একর আয়তনের এই বিশাল দিঘির ১৩ একর এলাকা বছরজুড়ে জলমগ্ন থাকে। মেলা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পুণ্যার্থীরা স্নান ও পূজা সম্পন্ন করছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮