ফরিদপুর প্রতিনিধি,
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা বাজে তখন ঘড়ির কাটায়। প্রকাশ্য ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে হঠাৎ দুধ দিয়ে গোসল শুরু করছেন এক নারী। মাথা ও শরীরে ঢালা হচ্ছে দুধ, আর চারপাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। মোবাইল ফোনে ধারণ করা হচ্ছে ভিডিও। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দুধ দিয়ে গোসল করা ওই নারী জুলেখা বেগম (৪৬)। তাঁর দাবি, মেয়েকে স্বামীর সংসার থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারলে দুধ দিয়ে গোসল করবেন, এমন ওয়াদা করেছিলেন তিনি। মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে এনে সেই ওয়াদা পূরণ করেছেন তিনি।
জুলেখা বেগম উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বাইখীর গ্রামের মহাশিন মোল্লার (৭৪) স্ত্রী। তাঁদের মেয়ে মনিরা খাতুনের (৩০) সঙ্গে পাশের গুনবহা ইউনিয়নের গুনবহা গ্রামের সুমন শেখের (৩২) বিয়ে হয় প্রায় ১৪ বছর আগে। তাঁদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই-বোন।
জুলেখার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে স্বামী মারধর ও নির্যাতন করতেন। সুমন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মেয়েকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধের পর গত দুইদিন আগে কাবিন রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে মনিরা ও সুমনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর মেয়েকে স্বামীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।
জুলেখা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। স্বামী নেশা করে মেয়েকে মারধর করত। মেয়েকে নিয়ে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে ছাড়িয়ে আনতে পেরেছি। তাই আমার ওয়াদা অনুযায়ী দুধ দিয়ে গোসল করেছি।’
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন বলেন, মনিরার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, স্বামী সুমন শেখ আজেবাজে নেশার সঙ্গে জড়িত। তাই বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে ওয়াদা অনুযায়ী সুমন শেখের সাবেক শাশুড়ি দুধ দিয়ে গোসল করছেন।’
মনিরার বাবা মহাশিন মোল্লা বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী নির্যাতন ও মারধর করতেন। তিনি নেশা করতেন। মেয়েকে নিয়ে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। পরে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আমার স্ত্রী দুধ দিয়ে গোসল করেছেন।
তবে স্ত্রীকে নির্যাতন ও নেশাগ্রস্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন শেখ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ সঠিক নয়।
চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে বাইখীর গ্রামটা তিনটি ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি আমার জানা নেই।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮