নাদিম সরকার,
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন। সেখানে বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিন।’
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, গত পরশু প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপকালে তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা মানুষের জন্য কাজ করছি। বারবার মানুষের কাছে যাওয়ার মাধ্যমে আমাদের কাজের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। এই টিকাদান কার্যক্রম আমাদের জন্য জনগণের আরও কাছাকাছি যাওয়ার একটি বড় সুযোগ।”
হামের উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সংক্রমণের খবর পাওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সরকার এই বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেছে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছে গেছেন। ইতোমধ্যে ঢাকার পর সব সিটি কর্পোরেশনে এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
টিকা ক্যাম্পেইনে প্রতিমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন যে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম প্রতিরোধের বৃহৎ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “হাম যেমন দ্রুত ছড়ায়, টিকার মাধ্যমে তেমনি একে দ্রুত নির্মূল করা সম্ভব। আমরা যদি অধিকাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবে এই প্রাদুর্ভাব এখনই থামানো সম্ভব হবে।”
সুস্থ ও সবল প্রজন্মের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যেকোনো স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ শুধু আপনার বাচ্চা টিকা নিলো কি না তাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
‘অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাতে দু-চারজন বাদ গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে’ যোগ করেন ড. এম এ মুহিত।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান সহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮