মাহবুবুর রহমান (শান্ত),
হাদি হত্যার বিচার দাবিতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য আহতদের দেখতে গিয়ে দেশের শীর্ষ চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)-এর ভয়াবহ যানবাহন সংকটের চিত্র সামনে আনলেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ও পরিবেশকর্মী মেঘনা আলম।
হাসপাতালের পরিচালক আসাদ সাহেবের সঙ্গে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় তিনি জানতে পারেন—প্রায় ৭,৫০০ জন কর্মী (চিকিৎসকসহ) কর্মরত থাকলেও সরকারি যানবাহন সুবিধা রয়েছে মাত্র একজনের জন্য—পরিচালক। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফদের জন্য কোনো সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা নেই।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুমূর্ষু ও জটিল রোগীদের শেষ আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল। প্রতিদিন প্রায় ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং সার্বিকভাবে প্রায় ৫০,০০০ রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। বেড সংকট ও জনবল ঘাটতি সত্ত্বেও দুর্ঘটনা কিংবা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার রোগীদের ফিরিয়ে না দিয়ে শেষ চেষ্টা পর্যন্ত চিকিৎসা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
মেঘনা আলম বলেন, জরুরি অপারেশন, ওষুধ সরবরাহ বা চিকিৎসকদের দ্রুত উপস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকলে অনেক সময় নির্মম বাস্তবতা তৈরি হয়—“ডাক্তার আসার আগেই রোগী মারা গেছে।” শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের প্রধান সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকার গাড়ি কিনেছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আলোচনার পর তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২–৩টি স্বল্পমূল্যের প্রাইভেট কার বা বড় গাড়ি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন, যাতে জরুরি সেবা কার্যক্রম কিছুটা হলেও সচল রাখা যায়। পাশাপাশি নতুন সরকারের প্রতি তার স্পষ্ট আহ্বান—অবিলম্বে ঢাকা মেডিকেলের জন্য অন্তত ৫০০টি সরকারি যানবাহন বরাদ্দ দিতে হবে।
মেঘনা আলমের ভাষায়,
“গুটি গুটি পায়েই পথ চলা শুরু হয়। সেই পথ ধরেই একদিন বাংলাদেশ সত্যিকারের মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।”
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮