সাগর আহমেদ জজ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি,
স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে যখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি খাদিজা আক্তার, তখনই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর স্ত্রী খাদিজা আক্তারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইডে নার্স হিসেবে চাকরি পেয়েছেন খাদিজা।
একসময় যে সংসারে ছিল স্বামীর উপার্জনে স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন, তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই সংসারেই নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। বাবার অপেক্ষায় থাকা ছোট্ট দুই শিশুর নিষ্পাপ চোখ আজও যেন খুঁজে ফেরে প্রিয় বাবাকে। বাবার হাত থেকে লজেন্স নেওয়ার আশায় বাড়ির এদিক-সেদিক ছুটে বেড়ানোর সেই স্মৃতি এখন পরিবারটির কাছে কেবলই বেদনার।
স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তানের ভরণপোষণ, সংসারের ব্যয়ভার এবং অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা—সবকিছু সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন খাদিজা আক্তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কীভাবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
এমন কঠিন সময়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদে পরিবারটির জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে খাদিজার জন্য একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেন তিনি।
জানা গেছে, রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইডে নার্স হিসেবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন খাদিজা আক্তার। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বর্তমানে দুই সন্তান ও মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। আপাতত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চাকরিতে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তিনি নগদ এক লাখ টাকা এবং পরিবারের সবার জন্য নতুন কাপড় পাঠিয়েছিলেন। এবার আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে কাজে যোগ দিয়েছি। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছি। আপাতত এখানেই থাকব। তিনি আমাদের সংসারে ঈশ্বরের দূত হয়ে এসেছেন। তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
খাদিজার কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন অসহায় পরিবারটির আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে, অন্যদিকে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা। স্বামীর মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই এবার সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
একটি বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক মানবিক উদ্যোগ। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই উদ্যোগে সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবার নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আশার আলো খুঁজে পেয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮