ধর্ম ডেস্ক,
বিয়ে ইসলামে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও শান্তির একটি পবিত্র বন্ধন। একটি সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে বয়সের পাশাপাশি চরিত্র, দ্বীনদারি, দায়িত্ববোধ, মানসিক পরিপক্বতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোরআন ও হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কোরআনের কিছু আয়াতে জান্নাতের নেয়ামত বর্ণনায় "সমবয়সী" সঙ্গীর উল্লেখ রয়েছে।
সুরা সাদ (৩৮:৫২)-এ আল্লাহ তাআলা বলেন:
"এবং তাদের পাশে থাকবে সমবয়সী, নতদৃষ্টির সঙ্গিনী।"
এছাড়া সুরা ওয়াকিয়া (৫৬:৩৫-৩৭)-এ এসেছে:
"আমি তাদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের করেছি চিরযৌবনা, সোহাগিনী ও সমবয়সী।"
তাফসিরবিদদের মতে, এসব আয়াত মূলত জান্নাতের নেয়ামতের বর্ণনা। যদিও কিছু আলেম দাম্পত্য জীবনে বয়সের সামঞ্জস্যকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে এসব আয়াত থেকে পার্থিব জীবনের জন্য বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নির্ধারণ করা হয়নি।
ইসলামী ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে, হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত উমর (রা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) সে সময় প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে তিনি হজরত আলী (রা.)-এর সঙ্গে ফাতেমা (রা.)-এর বিয়ে সম্পন্ন করেন।
কিছু আলেম এ ঘটনা থেকে বয়সের সামঞ্জস্যের গুরুত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে ইসলামী আইনবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে এবং এটিকে শরিয়তের বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে গণ্য করা হয় না।
ইসলামের ইতিহাসে হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.)-এর দাম্পত্য জীবন আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় তাঁদের বয়স সম্পর্কে কিছু পার্থক্য থাকলেও সাধারণভাবে বলা হয়, তাঁদের বয়সের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না।
অনেক ইসলামী গবেষক মনে করেন, বয়স কাছাকাছি হলে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হতে পারে। তবে এটি কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সামাজিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে একটি মতামত।
অনেকে প্রশ্ন করেন, যদি বয়সের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন হজরত খাদিজা (রা.) ও হজরত আয়েশা (রা.)-কে ভিন্ন বয়সে বিয়ে করেছিলেন?
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। তিনি ছিলেন সম্মানিত, প্রজ্ঞাবান ও সম্পদশালী ব্যবসায়ী। তাঁদের দাম্পত্য জীবন ছিল অত্যন্ত সফল এবং তাঁর জীবদ্দশায় রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য কোনো বিয়ে করেননি।
হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে ইসলামী ঐতিহ্যে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে—
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য নির্ধারণ করে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। বয়স বেশি বা কম হওয়া নিজেই কোনো বিবাহকে বৈধ বা অবৈধ করে না।
ইসলামের শিক্ষা হলো—এমন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা, যার মধ্যে দ্বীনদারি, উত্তম চরিত্র, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মানসিকতা রয়েছে। বয়সের বিষয়টিও বিবেচ্য হতে পারে, তবে সেটি একমাত্র বা প্রধান মানদণ্ড নয়।
একটি সফল দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে পারস্পরিক ভালোবাসা, আস্থা, সম্মান, দায়িত্বশীলতা এবং আল্লাহভীতির ওপর। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বয়সের পাশাপাশি উভয়ের মানসিক পরিপক্বতা, পারিবারিক সামঞ্জস্য ও ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮