নিউজ ডেস্ক:
ডা. হাসনিনা আক্তার
স্তন ক্যান্সার আমাদের চারপাশে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক নারী জানতেও পারেন না যে শরীরের ভেতরে এই রোগ বেড়ে উঠছে। আর ঠিক সময়ে ধরা না পড়লে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই নিজের শরীরের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখা, নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অক্টোবর মাসকে বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস হিসেবে পালন করা হয়, যেন প্রতিটি নারী নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন এবং সময়মতো পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ পান।
স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। তাই মাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করা (সেল্ফ এক্সামিনেশন) খুবই জরুরি। এতে শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন সহজে বোঝা যায় এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য ম্যামোগ্রাফি বা অন্যান্য স্ক্রিনিং পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ক্যান্সারকে প্রাথমিক অবস্থাতেই শনাক্ত করতে সাহায্য করে, ফলে চিকিৎসার সফলতার হার অনেক বেড়ে যায়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাজে এখনও নানা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে ভাবেন, স্তন ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য নয় বা পরীক্ষাগুলো খুব কষ্টকর। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বরং সময়মতো শনাক্তকরণই হলো বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক নারী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
শুধু পরীক্ষাই নয়, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনও ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যেমন- স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিন গ্রহণ করা। একইসাথে পরিবারের সমর্থন এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজ প্রাপ্যতা নারীদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখে।
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম বর্তমানে বিশ্বমানের ডায়াগনস্টিক ও অনকোলজি চিকিৎসা দিচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত ফলোআপ এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা দিয়ে রোগীদের সহায়তা করছেন, যাতে তারা প্রাথমিক পর্যায়েই কার্যকর চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন।
স্তন ক্যান্সার ভয়ের কোনো নাম নয় যদি আমরা সময়মতো তা শনাক্ত করতে পারি। প্রতি মাসে অন্তত একবার নিজের শরীর পরীক্ষা করা উচিৎ এবং কোনো পরিবর্তন টের পেলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, প্রারম্ভিক শনাক্তকরণ মানেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।
সবচেয়ে বড় কথা, স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা। নিজের শরীরের যত্ন নেয়া মানে শুধু নিজেকে রক্ষা করা নয়, বরং পরিবার ও সমাজকেও সচেতন রাখা।
সচেতন থাকুন, নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং সময়মতো চিকিৎসা নিন। স্বাস্থ্যই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ আর প্রতিটি নারীর জীবনই অমূল্য।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮