ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:
গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা কালে কতিপয় দুষ্কৃতিকারীরা র্যাব সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় চারজন র্যাবের সদস্য গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হলে অন্যান্য র্যাব সদস্যরা তাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়। জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।
এরই ধারাবাহিকতায় ০৯ মার্চ সোমবার, আনুমানিক ভোর ০৫:৩০ হতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ও ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ র্যাবের বৃহৎ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে র্যাবের ৪০০ জনসহ সর্বমোট ৩,১৮৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। প্রবেশ ও বাহিরের পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি এবং জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথবাহিনী ও র্যাব এর আভিযানিক দল।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মোট ২২ জনকে আটক করা হয়। এ সময় যৌথ বাহিনী কর্তৃক ০৩টি আগ্নেয়াস্ত্র (০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১টি দেশীয় পিস্তল ও ০১টি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, ০৩টি ডিডিআর, ০১টি পাওয়ার বক্স এবং ০২টি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে, যা অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। উক্ত যৌথ অভিযানে আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রমও ভেঙে দেওয়া হয় কারণ এসব ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান শেষে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ও র্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের নিকট স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনসাধারণ যৌথ বাহিনীর নিকট কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপন করেন।
৫। জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল করা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইন, শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান থাকবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮