চঞ্চল,
ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি দিঘিকে ঘিরে সরকারের গ্রহণ করা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সংরক্ষণমুখী নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরমতি দিঘির পাড়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে উপস্থিত সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। আগামী ২৭ মার্চ ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি মেলা সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মন্ত্রী জানান, সিন্দুরমতি দিঘিকে দেশের একটি অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর করতে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন, দিঘির সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, দক্ষ নকশাবিদদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দিঘিটিকে সংস্কার করে এর প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনার নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংবাদমাধ্যম কর্মীদের বলেন, "সামাজিক অবক্ষয় কমিয়ে আনতে এবং তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার জেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।" খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়লে তরুণরা ভুল পথ থেকে ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তীর্থস্থানটির পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে অতীতে যেসব অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল, তা প্রতিরোধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দিঘির পরিবেশ বা ধর্মীয় গাম্ভীর্য নষ্ট করে এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না।
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আয়োজিত মেলায় এবারও লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং দুই জেলার পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মেলার প্রাক্কালে পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮