প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:১০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৭:০৩ পি.এম

চট্টগ্রাম ব্যুরো,
বাদী মোছাম্মাৎ জেসমিন আক্তার (৩৫) একজন গৃহিণী। তার স্বামী মোঃ হেলাল উদ্দিন (৩৬) পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন শুলকবহর রওশন বোডিংয়ের পাশে একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন। ১নং আসামী মোঃ আবুল হাশেম (৫২) বাদীর স্বামীর পূর্বপরিচিত এবং ব্যবসায়িক পার্টনার। ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে ১নং আসামী বিভিন্ন সময়ে বাদীর স্বামীর ব্যবসায় মোট ৯,৩০,০০০/- টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে বাদীর স্বামী বিভিন্ন তারিখে তাকে মোট ৪,৬১,০০০/- টাকা পরিশোধ করেন। ফলে ৪,৬৯,০০০/- টাকা পাওনা থাকে। এই পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ১নং আসামী বেশ কিছুদিন ধরে বাদীর স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ০৭/০৯/২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটের সময় ১নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সাদা মাইক্রোবাস (রেজিঃ নং- চট্ট মেট্রো-ছ-১১-৯৮৪৮) নিয়ে শুলকবহর রওশন বোডিংয়ের সামনে পাকা রাস্তায় আসে। তারা বাদীর স্বামীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। বাদী স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত চট্টগ্রাম শহরে এসে বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে তার স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ০৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার সময় বাদীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৮৪৫-৪৩৮০১০-এ তার স্বামীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৮১৮-৬৭৩০২১ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ফোন করে। তারা বাদীর স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০,০০,০০০/- টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে বাদীর স্বামীকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে আবার ফোন করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে যে, তার স্বামীকে বাঁচাতে হলে দ্রুত ১,০০,০০০/- টাকা পাঠাতে হবে, তাহলে তারা বুঝবে যে বাদী পরবর্তীতে পুরো টাকা দিতে রাজি। এভাবে বাদীর স্বামীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বাদী থানায় এজাহার দায়ের করেন। বাদীর উক্তরূপ এজাহারের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ মডেল থানার মামলা নং-০৫, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬খ্রি. ধারা-৩৬৫/৩৮৫/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
এপ্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে এসআই মোঃ হুমায়ুন কবীর সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ ইং ০৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ০৩ টা ৩০মিনিটের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর আকবরশাহ্ থানাধীন উত্তর কাট্টলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী ০১। মোঃ শান্ত মিয়া (৩২), পিতা-মৃত মোঃ মোস্তফা, মাতা-মৃত হোসনেয়ারা বেগম, সাং-পক্ষিয়া ইউনুস মোক্তার বাড়ী, পোস্টঃ বক্তার মুন্সি বাজার, থানা-সোনাগজী, জেলা-ফেনী, বর্তমানে-উত্তর কাট্টলী মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড়, চাঁনমিয়া ডাক্তার বাড়ী, থানা-আকবরশাহ, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় আসামী ০২। মোঃ আবুল হাশেম (৫২), পিতা-মৃত আহমদ হোসেন, মাতা-জোহরা খাতুন, সাং-ভিংরোল মাষ্টার আশরাফ আলীর বাড়ী, পোঃ ছত্তার হাট, থানা-আনোয়ার, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-মোহাম্মদপুর, হাজী এমদাদ আলী রোড়, এস নাহার বিল্ডিং ২য় তলা, থানা-পাঁচলাইশ, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবরশাহ্ থানাধীন লতিফপুর এলাকা হতে মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী ০৩। মোঃ আকরাম (৩৪), পিতা-মৃত সোলেমান, মাতা-মৃত ছহুরা খাতুন, সাং- লতিফপুর রেলবিট কালীরচরা ব্রীজের দক্ষিণ পাশে, আনাছ ভিলা কাজী বাড়ী, ইউপি-১০ নং সলিমপুর, থানা-আকবরশাহ, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করেন। তার হেফাজত হতে অপহৃত ভিকটিম মোঃ হেলাল উদ্দিন(৩৬) এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ শান্ত মিয়া (৩২) ও মোঃ আকরাম (৩৪) দ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা জানায় যে, অপহৃত ভিকটিম চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন মহামায়া লেক এলাকায় আছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক টিম মিরসরাই এবং জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় জোরারগঞ্জ থানাধীন মহামায়া লেকের ভিতরে বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনায় জড়িত আসামী ০৪। মোঃ মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), পিতা-মৃত নিজাম উদ্দিন, মাতা-রেহানা আক্তার সাং-গড়িয়াহাস নিজাম উদ্দিন ভূইয়া বাড়ী, পোঃ মিঠছড়া, থানা-মীরসরাই, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-কর্ণেল হাট পন্ডিতবাড়ী অরবিন টাওয়ার ৪র্থ তলা, থানা-আকরবশাহ, জেলা-চট্টগ্রাম, ০৫। আমজাদ হোসেন (৩৫), পিতা-মৃত আবুল হোসেন, মাতা-আনোয়ারা বেগম, সাং-কেদারখীল আজিজ ডাক্তার বাড়ী, পোঃ জাফরনগর, থানা-সীতাকুন্ড, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-সাগরিকা আলমতারা পুকুর পাড়, সুইটি ইনচার্জের ভাড়াটিয়া, থানা-পাহাড়তলী, জেলা-চট্টগ্রাম, ০৬। মাহবুব রহমান (২৬), পিতা-মোঃ মুসলিম আলী, মাতা-মাহমুদা বেগম, সাং-শোভাগঞ্জ উত্তর মুরাদহ সারের পাড়, লতিফ ড্রাইবারের বাড়ী, থানা-সুন্দরগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা, বর্তমানে-উত্তর কাট্টলী রেলবিটের পাশে মোবারক আলীর বাড়াটিয়া, থানা-আকবরশাহ, জেলা-চট্টগ্রাম, ০৭। মানিক হোসেন (৩০), পিতা-সুজল হক, মাতা-রসুমা বেগম, সাং-চবরপুর আব্দুস সালাম ডাক্তার বাড়ী, পোঃ আহমেদপুর, থানা-সোনাগাজী, জেলা-ফেনী, বর্তমানে-অলংকার জোলাপাড়া, রাজ্জাক মিয়ার ভাড়াটিয়া, থানা-পাহাড়তলী, জেলা-চট্টগ্রাম, ০৮। মোঃ ফারুক (৩৪), পিতা-জাহাঙ্গীর আলম, মাতা-হাবাধন বেগম, সাং-মধ্যম সোনা পাহাড়, হোরা মিজি বাড়ী, পোঃ বদর চৌধুরীহাট, থানা-জোরারগঞ্জ, জেলা-চট্টগাম, বর্তমানে-মধ্যম দূর্গাপুর, মোস্তফা ম্যানশন, থানা-জোরারগঞ্জ, জেলা-চট্টগ্রামদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে অপহৃত ভিকটিম মোঃ হেলাল উদ্দিন (৩৬), পিতা-মৃত সামসুল আলম, মাতা-হামিদা বানু, সাং-রুহুল্লাপুর, চন্নু মিয়া তালুকদার, ১নং ওয়ার্ড, মেখল ইউপি, থানা-হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-ফতেয়াবাদ, উর্মি ভিলা (৩য় তলা), জিয়ন মুহুরী বাড়ী, থানা-হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রামকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এজাহারনামীয় ১নং আসামী মোঃ আবুল হাশেম (৫২) ও অপহৃত ভিকটিম মোঃ হেলাল উদ্দিন(৩৬) পরস্পর ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্তে বিরোধ ছিল। মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ আকরাম (৩৪) এজাহারনামীয় আসামী মোঃ আবুল হাশেম(৫২) এর মেয়ের স্বামী হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ আবুল হাশেম(৫২) ও আসামী মোঃ আকরাম (৩৪) দ্বয় ভিকটিমের নিকট হতে পাওনা টাকা উদ্ধারের নিমিত্তে আসামী মোঃ শান্ত মিয়া (৩২)কে ১,০০,০০০/-টাকার দিয়ে অন্যান্য আসামীদের ভাড়া করে ভিকটিমকে অপহরণ করেছে মর্মে স্বীকার করে।