নিজস্ব প্রতিবেদক,
স্বামীর সংসারে থেকে পরকীয়া প্রেম করেছেন সাত বছর। নিয়মিত করেছেন দৈহিক মেলামেশা। অবশেষে স্বামীকে তালাক দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পরকীয়া প্রেমিকের সাথে। কিন্তু সে বিয়ে স্থায়ী হয়নি। বিয়ের এক মাস পেরুতে না পেরোতেই তালাক দিয়েছেন পরকীয়া প্রেমিক থেকে স্বামী বনে যাওয়া নাসির উদ্দিন।
নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: আফজাল হোসেনের পিএস, ২০২০ সালে ছিলেন পাকশির বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা। তার সাথে কোনো এক মাধ্যমে পরিচয় হয় পাবনা সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনমের। শবনম তখন পাবনা সদর উপজেলার লাইব্রেরি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো: তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘরে দশ বছরের কন্যা সুইটি ( প্রতিকী নাম)। বেশ সুখের সংসার ছিলো তৌহিদুল - শবনমের। কিন্তু সেই সীমিত সুখ তৃপ্তি দিতে পারেনি শবনমকে। অতৃপ্ত বাসনা চরিতার্থ করতে সে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় তৎকালীন বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিনের সাথে। শুরু হয় তাদের অবৈধ মেলামেশা। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, বিভিন্ন রিসোর্ট, আত্মীয় স্বজনের বাসা, বিনোদন কেন্দ্র, এমনকি চলন্ত ট্রেনের কেবিনেও চলতো তাদের অবৈধ মেলামেশা। শুধু তাই নয়, তৌহিদুলের অনুপস্থিতিতে তার শোবার ঘরেই শবনমের সাথে রাত্রি যাপন করতে থাকে নাসির। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরকীয়া প্রেমের কথা জানাজানি হয়ে যায়। তাছাড়া শবনম - তৌহিদুলের কন্যা সুইটি মায়ের এই অনৈতিক কর্মকান্ডে ত্যক্ত বিরক্ত হতে থাকে। মায়ের সাথে এ নিয়ে তার বাক বিতন্ডাও হয় বেশ কয়েকবার। এক পর্যায়ে মায়ের পরকীয়া প্রেমের কথা সে তার বাবা তৌহিদুলকে জানায়। তৌহিদুল নিজে থেকেও ততদিনে স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জেনে গেছে। কিন্তু সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে কি করবেন ঠিক করতে পারছিলেন না। পরে সেই সন্তানই যখন তার কাছে মায়ের পরকীয়ার কথা জানায়, তখন তৌহিদুল তার করনীয় ঠিক করে ফেলে।
সে অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্ত্রীকে সাবধান করে দেয়। এমনকি নাসিরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে না পারলে সে শবনমকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেয়। শুরু হয় তাদের পারিবারিক কলহ। এরপর নাসিরকে নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া মারামারি হতে থাকে নিয়মিত। ঝগড়াঝাটির কারনে তাদের একমাত্র সন্তান সুইটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। কিন্তু শবনম কিছুতেই নাসিরকে ছাড়তে পারেনি অথবা চায়নি।
এক পর্যায়ে তৌহিদুল চরম সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং সে তার স্ত্রী শবনমকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং সে চলে যাওয়ার পর তালাকনামা পাঠিয়ে দিবে বলে জানায়।
তৌহিদুলের তালাকের সিদ্ধান্তে বিচলিত হয়ে পড়ে শবনম। সে তখন নাসিরকে চাপ দেয় তাকে বিয়ে করার জন্য। উল্লেখ্য যে এতোকিছুর মাঝেও নাসিরের সাথে তার দৈহিক মেলামেশা চলতো নিয়মিত।
বিয়ের প্রস্তাবে নাসির আপত্তি জানায়নি। সে শবনমকে বলে তৌহিদুলকে তালাক দিয়ে তার কাছে চলে আসতে। শবনম নাসিরের কথামতো গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ তৌহিদুলকে তালাক দেয় এবং নাসিরকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। শবনমের চাপে নাসির গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে শবনমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
কিন্তু বিয়ের এক মাস পূর্ণ হতেই নাসির গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখ শবনমকে তালাক দেয়। একই সাথে সে শবনমের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে শবনম পড়ে উভয় সংকটে। একদিকে নাসিরকে ভালোবেসে সে তৌহিদুলের সংসার ভেঙ্গেছে। অন্যদিকে কিছু না জানিয়ে নাসির তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে। এখন শবনম না পারছে তৌহিদুলের সংসারে ফিরে যেতে, না পারছে তার পরকীয়া প্রেমিক থেকে স্বামী বনে যাওয়া নাসিরের সাথে সংসার সাজাতে। নাসিরের কাছ থেকে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে এখন সে পথে পথে ঘুরছে।
তৎকালীন পাকশির বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন এখন রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেনের পিএস। নাসিরের স্ত্রীর মর্যাদা পেতে মরিয়া শবনম সম্প্রতি রেল ভবনে গিয়েছিলেন ডিজির কাছে নালিশ করতে। ব্যস্ততার অযুহাতে ডিজি সেদিন সময় দেননি শবনমকে।
বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে একসাথে দুই পুরুষকে সঙ্গ দেওয়া, একসাথে দুই পুরুষকে তৃপ্তি দেওয়া শবনম এখন পুরুষের সঙ্গবিহীন, স্বামীহীন, সংসারহারা উদভ্রান্ত এক নারী। মেয়ে এখন সাবালক, নিজের শারিরীক চাহিদাও ফুরিয়ে যায়নি। একদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ, তাকে লেখাপড়া শেখানো, পাত্রস্থ করার চিন্তা, অন্যদিকে নিজের একটা সংসারের চিন্তা। সে না পারছে সন্তানের ঠিকঠাক দেখাশোনা করতে, না পারছে নিজে গুছিয়ে একটা সংসার করতে। তাছাড়া মেয়ে যে তার কর্মকান্ডে তাকে ঘৃণা করে এটাও তাকে মনোকষ্টে রেখেছে চরমভাবে।
এবার আসি নাসির প্রসঙ্গে। রেলওয়ে ক্যাডারের ৩০ ব্যাচের কর্মকর্তা। সীমাহীন দুর্নীতি, চারিত্রিক স্খলন এবং বেপরোয়া জীবনযাপন যার নামের সাথে জড়িয়ে আছে। বয়স চল্লিশ না পেরোতেই বিয়ে করেছে তিনটি। রয়েছে ডজনখানেক গার্লফ্রেন্ড। এর পরও বিভিন্ন অভিজাত আবাসিক হোটেলে নারীসঙ্গ পেতে হয় তাকে নিয়মিত। তার প্রথম স্ত্রী তার এমন বেপরোয়া জীবনযাপনে আপত্তি করলে তাকে সে তালাক দেয় বিনা উস্কানিতে। দ্বিতীয় স্ত্রী অত্যন্ত গরীব ঘরের মেয়ে। নিয়মিত ভাত-কাপড়ের সংস্থানই হয়না তার বাবার বাড়ীতে। তাই সে মুখ বুঁজে সব সহ্য করে নাসিরের সাথে সংসার করছে এক প্রকার বাধ্য হয়ে। তৃতীয় বিয়ে সাঈদা শবনমের সাথে সাত বছর পরকীয়া প্রেমের পর।
মাত্র এক যুগের কিছু বেশি সময় চাকরি করে নাসির উদ্দিন মালিক হয়েছেন শত কোটি টাকার। রাজধানীতে কিনেছেন একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের বাগান, ডেইরি ফার্মসহ রয়েছে একাধিক ব্যবসা। শেয়ার মার্কেটে বেশ কিছু কোম্পানির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার রয়েছে তার দখলে। শুধু ডিজির পিএস হিসেবে নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বদলি ও ঠিকাদারী কাজের মধ্যস্থতা (দালালি) করে প্রতি মাসে আয় করেন কয়েক লাখ টাকা। অল্প বয়সে এই বিশাল বিত্ত বৈভব তাকে অমানুষে পরিণত করেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক ঘনিষ্ঠজন মন্তব্য করেন।
দুজন সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক অধঃপতন ও চারিত্রিক স্খলন উৎসুক জনতার আলোচনার খোরাক হয়েছে বলে জানা যায়। এ নিয়ে রেল ভবন ও পাবনা জেলা সদরে মুখে মুখে আলোচনা চলছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮