হাসান শিকদার, মানিকগঞ্জ,
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চাঞ্চল্যকর লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক মোঃ আফছার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ঢাকার পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের এক প্রেস নোটে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাটুরিয়া থানাধীন নাহার গার্ডেন সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকা থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়—তিনি লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮), পাবনা সদর এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পরপরই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা) অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দেন। ডিবির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো-এর তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ হিমেল হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল সাটুরিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের দাবি, তদন্তে বেরিয়ে আসে নিহত লাইলী বেগমের সঙ্গে গ্রেপ্তার আফছারের দীর্ঘ ১৮-১৯ বছরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিবাহের বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে আফছার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে আফছার ঢাকার সেনপাড়া পর্বতার বাসা থেকে একটি ধারালো চাকু সঙ্গে নিয়ে লাইলীকে নিয়ে সাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা নয়াডঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে অন্ধকার নেমে এলে আফছার লাইলীকে নাহার গার্ডেনের কাছে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের পর বিবাহের বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। একপর্যায়ে আফছার লাইলীর পরিহিত কাপড়ের আঁচল দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং পরে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর আফছার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ঢাকায় তার ভাড়া বাসায় চলে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি।
পুলিশ জানায়, ৩১ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকার পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আফছারকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আফছার সাটুরিয়া উপজেলার মৈশলোহা গ্রামের মৃত ফয়জুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮