চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
মেঘের রাজ্য সাজেক কি তবে আগুনের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছিলো, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জুম চাষের আগুন ছড়িয়ে পড়ার এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক। এক বছরের ব্যবধানে আবারও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছিল তীব্র আতঙ্ক। তবে ৫৪ বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন এবং ফায়ার সার্ভিসের তড়িৎ পদক্ষেপে এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেল পাহাড়ের এই রূপসী কন্যা।
সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় জুম চাষের জন্য দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পর্যটন কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হতে থাকলে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে নীল পাহাড়ের আকাশ।
খবর পাওয়া মাত্রই সাজেকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৫৪ বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের সদস্যরা রণসাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দুর্গম পাহাড় আর প্রতিকূল ভূ-প্রকৃতি উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা আগুনের বিস্তার রোধে মানবপ্রাচীর গড়ে তোলেন। তাদের সুশৃঙ্খল তৎপরতা আগুনের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম হয়।
বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ে নামে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। জীবন বাজি রেখে তারা আগুনের মূল উৎস মুখগুলো একে একে বন্ধ করে দেন। দুই বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্র এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বারবার জুমের আগুন থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতার দাবি জোরালো হচ্ছে।
প্রকৃতি আর মানুষের লড়াইয়ে আজ জয় হলো মানুষের সাহসিকতার। বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের এই অতন্দ্র প্রহরার কারণেই আজও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকবে সাজেক ভ্যালি। সাজেক বেঁচে গেলো আর এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি থেকে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮