নিজস্ব প্রতিনিধি,
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মারপিট, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। বিশেষ করে মামলার এক আসামিকে নিয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারৈহাট পূর্বকান্দি এলাকায় ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২০ এপ্রিল সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি সদরপুর থানায় নথিভুক্ত হয়েছে, যার নম্বর ২০ এবং বার্ষিক নম্বর ৯৩।
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৭৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অনধিকার প্রবেশ, হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, গুরুতর জখম, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িত।
তবে মামলার তিন নম্বর আসামি শুকুর মাতুব্বর (৬৫), পিতা মৃত. মদন মাতুব্বর, সদরপুর উপজেলার বাসিন্দা-কে নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, “যিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তিনি কীভাবে আসামি হলেন” এই প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলার বাদী মতিউর রহমান পূর্ব শত্রুতার জেরে ইচ্ছাকৃতভাবে শুকুর মাতুব্বরকে আসামি করেছেন। তাছাড়াও টাকার গরমে সাধারণ মানুষকে মানুষ বলে মনে করেন না মতিউর রহমান। শুধু সাধারণ গ্রামবাসীই নয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান/মেম্বারদেরকে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ করেছে গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে মতিউর রহমানের সঙ্গে আমাদের প্রতিবেদক মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
ঘটনা অনুসন্ধানে গিয়ে মামলার বাদী মতিউরের হেডমিন্ত্রী (প্রত্যক্ষদর্শী) জানায়, এখানে কোন চাঁদাবাজির কোন কথা আমি শুনতে পাইনি ও এখানে চায়নিজ কুড়াল, রামদা বা কোন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারি হয়নি। আমার মালিকের সঙ্গে কাঠের বাটাম দিয়ে শুধু দুজনের ভিতরে ধস্তাধস্তি হয়েছে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কাঠের টুকরোয় লাগানো তারকাটা দিয়ে আমার মালিকের হাত কেটে যায়। এছাড়াও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী জানিয়েছেন যে, মামলায় উল্লেখিত ঘটনার বর্ণনা অধিকাংশই মিথ্যা ও বানোয়াট।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আল মামুন শাহ্ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করবেন বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮