স্পোর্টস ডেস্ক,
গত কয়েক বছরে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফ্ল্যামেঙ্গোর একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। সে সময় অনূর্ধ্ব-১৯ কোনো ফুটবলারের জন্য এটিই ছিল সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। রিয়ালের বিশ্বাস ছিল, একদিন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হবেন। সময় প্রমাণ করেছে, সেই বিশ্বাস ভুল ছিল না।
রিয়ালের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস এখন অপরিহার্য। লা লিগায় ২৪২ ম্যাচে ৭৭ গোল ও ৪১ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি জিতেছেন তিনটি লা লিগা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটি কোপা দেল রে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবেও নিজের পরিচয় দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের খুব কাছাকাছিও পৌঁছেছিলেন।
তবে ক্লাবের মতো জাতীয় দলে তার পথচলা এতটা মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলের সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা মিলিয়ে ৬১৭ মিনিট খেলে করেছিলেন মাত্র তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল পেতেও খেলতে হয়েছিল ১৯ ম্যাচ।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল বিশ্লেষক মার্কাস আলভেসের মতে, সবাই আশা করেছিল ভিনিসিয়ুস অনেক আগেই সেলেসাওদের মূল ভরসায় পরিণত হবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণে সময় লেগেছে। সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ফাবিও লুসিয়ানোও মনে করেন, নেইমারের অনুপস্থিতিতে নিজেকে তার বিকল্প হিসেবে প্রমাণ করার অতিরিক্ত চাপই ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে যেন বদলে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রথম চার ম্যাচেই করেছেন চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন শীর্ষ সারিতে। তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেন।
পরিসংখ্যানও বলছে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস। বল পায়ে দৌড়, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার দক্ষতা তাকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে। ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে বল ক্যারি করার পর শট তৈরির ক্ষেত্রে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল এমবাপে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই তালিকার শীর্ষে আছেন ভিনিসিয়ুস নিজেই।
চলতি বিশ্বকাপেও বল ক্যারি করে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যৌথভাবে সবার ওপরে। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে সবচেয়ে বেশি বল নিয়ে ঢুকেছেন তিনিই। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ এক্সপেক্টেড গোল (৩.৮৭) তৈরি করা খেলোয়াড়ও ভিনিসিয়ুস।
অপ্টার সুপারকম্পিউটার ব্রাজিলের পরবর্তী নকআউট ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৬৪.৭ শতাংশ। আর ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ৯.১ শতাংশ। ব্রাজিল যদি সেই স্বপ্ন ছুঁতে পারে, তবে তার কেন্দ্রে থাকবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ক্লাবের মতো জাতীয় দলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি প্রমাণ করতে পারেন—তিনি শুধু ভবিষ্যতের নয়, বর্তমানেরও অন্যতম সেরা ফুটবলার।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮