
মো: আব্দুর রহিম শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ও প্রভাবশালী এলাকা, যা অনেকের কাছে “দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ” নামেই পরিচিত। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত এই এলাকায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছেন জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম। সম্প্রতি ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলা ও ৯৮ থানার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ সাফল্যের জন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।
জাজিরা থানা সুত্রে জানা যায়, যোগদানের মাত্র ০২ মাস ২০ দিনে তাঁর নেতৃত্বে জাজিরা থানায় মোট ২৩৬ জন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ১০১ জন, পুলিশ আক্রান্ত মামলার ২৪ আসামি, আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার ১ আসামি (৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার), মাদক মামলার ৪৪ আসামি, নিয়মিত মামলার ২২ আসামি, গ্রেফতারি পরোয়ানার ৬৭ আসামি এবং কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্য রয়েছে।
এই সময়ে তাৎক্ষণিক অভিযানেও এসেছে বড় সাফল্য। ১৫ আগস্ট ভিডিও প্রচারের ঘটনায় মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রলীগের ২ নেতা গ্রেফতার, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাৎক্ষণিক অভিযানে ৮ নেতা গ্রেফতার, আবার বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আরও ৮ নেতা গ্রেফতার করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৩১টি মামলায় মোট ৪৪ আসামি গ্রেফতার হয় এবং উদ্ধার করা হয় ৪০১ পিস ইয়াবা, ৫৯০ গ্রাম গাঁজা ও ৪ গ্রাম হিরোইন—যা গত ৫ বছরে জাজিরা থানার সর্বোচ্চ অর্জন।
এছাড়াও উপজেলার টিএন্ডটি মোড়ে যানজট নিরসনে অবৈধ ১০০ দোকান উচ্ছেদ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নম্বরবিহীন মোটরবাইক জব্দ, স্কুল-কলেজে কিশোর গ্যাং, ইভটেজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা, কুন্ডেরচরে পদ্মায় নৌ-টহল বৃদ্ধি করে চাঁদাবাজি দমন এবং বিলাসপুর এলাকায় বোমাবাজি ও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম তাঁর নিজস্ব এক ফেসবুক পোষ্টে বলেন, “প্রিয় জাজিরা বাসি, আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলা ও ৯৮ থানার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার পেয়েছি। এই সম্মান আমার একার নয়—এটা জাজিরার প্রতিটি মানুষের। আমি এই অর্জন আপনাদের জন্যই উৎসর্গ করলাম।”