আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার ডিগ্রি অর্জন নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তোলা হয়। এর জবাবে দীপক জানিয়েছেন, নিজের সব শিক্ষাগত নথি, এমনকি বৃত্তি পাওয়ার চিঠিও প্রকাশ করতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও তার শিক্ষাগত নথি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দীপকের বক্তব্য, শুধু তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েই কেন প্রশ্ন তোলা হবে? প্রধানমন্ত্রীও যদি নিজের শিক্ষাগত নথি প্রকাশ করেন, তাহলে দুজনের নথি পাশাপাশি দেখলেই বিতর্কের অবসান হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মোদিকে সরাসরি উল্লেখ করে দীপক বলেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত নথি নিজের চোখে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০১৪ সালে মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সময়ের হিসাব টেনে প্রায় ১২ বছরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগেও মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দীপক। তার দাবি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানের মতো মোদিকে প্রকাশ্যে তাদের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তুলে ধরে না। তবে বিষয়টি নিয়ে ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।
মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। প্রায় এক দশক আগে তৎকালীন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় মোদির শিক্ষাগত নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল। তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েও তখন বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়।
পরে বিজেপির তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি সংবাদ সম্মেলনে মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার নথির অনুলিপি প্রকাশ করেন। বিজেপির দাবি ছিল, মোদি ১৯৭৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৮৩ সালে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কেজরিওয়ালের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বিজেপির পক্ষ থেকে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
২০২৫ সালের আগস্টে দিল্লি হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইনের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ব্যক্তিগত তথ্যের আওতাভুক্ত। ফলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত নথি প্রকাশ করতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো বিচারাধীন।
এদিকে অভিজিৎ দীপকের নতুন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮