নিউজ ডেস্ক,
একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির পথ নয়, বরং রাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাক্ষরতার হার বেড়েছে, নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারও সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে এই পরিমাণগত অগ্রগতির পাশাপাশি গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়নের পর উচ্চশিক্ষায় নতুন ধারা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১১০টিরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এই খাত উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মান নিয়ে বিতর্কও কম নয়।
অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা সুবিধা ও দক্ষ শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে ‘ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ‘দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম’ নয়।
সব বিশ্ববিদ্যালয় এক রকম নয়। যেমন North South University, BRAC University, Independent University, Bangladesh, American International University-Bangladesh এবং East West University আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে কাজ করছেন।
তবে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে বড় ফাঁক রয়ে গেছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, অনেক গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে ডিগ্রি থাকলেও কর্মসংস্থানের উপযোগিতা কমে যাচ্ছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা হলো মুখস্থনির্ভরতা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ছে।
বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি হলো গবেষণা। কিন্তু বাংলাদেশে গবেষণা কার্যক্রম এখনো সীমিত। পর্যাপ্ত অর্থায়ন, গবেষণাগার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও রোবটিক্সের যুগে দক্ষতার চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এখনো পুরোনো কাঠামোতে সীমাবদ্ধ।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইন্টার্নশিপ অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হলে—
বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে, তবে গুণগত মান নিশ্চিত না হলে এই অগ্রগতি টেকসই হবে না। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮