মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানাধীন নাওডোবা ইউনিয়নে মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় লতিফ ফকিরের বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের (আর.এস-৬ প্রজেক্ট এলাকায়) একটি মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিফুল ইসলাম রাজিব ফকির ও তার বাবা লতিফ ফকির, অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ফয়জুল মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান কাশেম বেপারী।
এর আগে সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ফয়জুল মাদবর ও কাশেম বেপারীসহ অনেকে মসজিদ নির্মাণের পক্ষে মত দেন। তবে লতিফ ফকির ও তার ছেলে রাজিব ফকির এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। অভিযোগ রয়েছে, হঠাৎ করে বৈঠকে উপস্থিত না হয়েও রাজিব ফকির আকস্মিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাশেম বেপারীকে পায়ে কুপিয়ে আহত করেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পরপর ২০ থেকে ২২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, দুই গ্রুপের মধ্যে পূর্ব থেকেই সংঘর্ষের প্রস্তুতি ছিল।
ঘটনার পরপরই পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কোরবান মাদবর বলেন, “দুই-তিন মাস ধরে বিএবির জায়গায় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। মসজিদের জন্য এখানে মালসামানও এনে রেখেছে। কিন্তু শুরু থেকেই লতিফ ফকির ও তার লোকজন মসজিদ নির্মাণে বাধা দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ সকালে মসজিদ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে সালিশ বসেছিল। সালিশ চলাকালীন সময় হঠাৎ লতিফ ফকিরের পক্ষের লোকজন ওভারটেক করে এসে কাশেম বেপারী ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন।”
অপরদিকে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে লতিফ ফকিরের বাড়িতে গেলে তার স্বজনরা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানান, উক্ত জায়গায় লতিফ ফকিরের একটি ক্লাব রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুবকদের আড্ডা ও সামাজিক কর্ম
কাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তাদের দাবি, “কাশেম বেপারী ও তার লোকজন জোরপূর্বক সেই ক্লাব ভেঙে সেখানে ঘর তুলতে চাইছে। বিষয়টি নিয়ে আগেও একাধিকবার সালিশ হয়েছে, কিন্তু তারা তা মানেনি। আজ সকালে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।”
লতিফ ফকিরের পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, “মসজিদের কথা আসলে তারা শুধু অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। আসল উদ্দেশ্য হলো জায়গাটি দখল করা ও এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। এখানে আগে থেকেই মসজিদ রয়েছে, নতুন করে মসজিদ তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।”
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি গোলাম রসুল জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ পাইনি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮