চঞ্চল,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের রাজনৈতিক মানচিত্র এখন সম্পূর্ণ ধানের শীষের রঙে রঞ্জিত। জেলার তিনটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্লিন সুইপ করেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সুসংগঠিত নেতৃত্ব এবং কৌশলী নির্বাচনী প্রচারণা।
লালমনিরহাট জেলার ৩টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফলঃ
লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধান ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার আনোয়ারুল ইসলাম রাজু পেয়েছেন ১,২৯,৫৭২ ভোট। লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে রোকন উদ্দিন বাবুল ১,২৩,৯৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো: ফিরোজ হায়দার লাভলু পান ১,১৭,২৫২ ভোট। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে নেতৃত্বের অনন্য রেকর্ড গড়ে বিজয়ী হয়েছেন অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু; তিনি ১,৩৯,৬৫১ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন, বিপরীতে দাড়িপাল্লা প্রতীকের মো: আবু তাহের পেয়েছেন মাত্র ৫৬,২৪৪ ভোট।
সাফল্যের নেপথ্যে দুলুর অনন্য ত্যাগ ও কৌশলঃ
লালমনিরহাটের এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়। লালমনিরহাট-১ ও ২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও তাঁর জাদুকরী নেতৃত্ব এবং বিশাল নির্বাচনী জনসভাগুলো সাধারণ ভোটারদের ধানের শীষের অনুকূলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং নেতাকর্মীদের সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে পুরো জেলাকে ঐক্যবদ্ধ করতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিজের নির্বাচনী আসনে প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটতে পারে জেনেও তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় সামষ্টিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং জেলার প্রতিটি আসনে সময় দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে দলীয় লক্ষ্যই তাঁর কাছে প্রধান। তাঁর এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা লালমনিরহাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা বর্তমানে জেলাজুড়ে সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮