কক্সবাজার অফিস:
ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দেশের পর্যটন রাজধানীখ্যাত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রূপ নিয়েছে বিশাল জনসমুদ্রে। গেল তিনদিনে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে ভিড় করেছেন অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটক। ঈদের আনন্দ, অবকাশ আর সমুদ্রের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ জেলার সমগ্র উপকূল।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার এটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ' 'গেল ২২ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ- ঈদের ছুটির এই তিনদিনেই পর্যটকের এই বিপুল সমাগম ঘটে।' মঙ্গলবার থেকে ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করলেও সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত পর্যটক উপস্থিতি থাকবে বলে আশা তার।
মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ছুটি শেষের মুখেও ভিড়ের ঘনত্ব কমেনি তেমন। লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো সৈকতজুড়েই মানুষের ঢল। বালিয়াড়িতে হাঁটাহাঁটি, বিচবাইক আর ঘোড়ার দৌড়, জেটস্কির ছুটে চলা- সব মিলিয়ে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ।
অনেকে সাগরের লোনাজলে নেমে ক্লান্তি দূর করছেন, কেউবা নীরবে বসে উপভোগ করছেন হিমেল বাতাস। আর স্মৃতিকে ধরে রাখতে ব্যস্ত প্রায় সবাই- ক্যামেরা আর মুঠোফোনে ছবি আর সেলফিতে।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক মুহাম্মদ তারেক বলেন, 'ঈদের পরদিন এখানে এসেছি, আগামীকাল ফিরব। কিন্তু সৈকতে এসে দেখি পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষের ভিড় এর আগে কখনো দেখিনি।'
রাজধানী ঢাকা থেকে ২০ জনের একটি দল এসেছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। তাদের একজন মির্জা রাজা আকাশ থেকে দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে বিস্মিত হয়ে তিনি বলেন, 'ড্রোন যত ওপরে তুলছি, ততই মানুষের সারি বাড়ছে। মনে হচ্ছিল, একসঙ্গে দুই লাখের কাছাকাছি মানুষ সৈকতে অবস্থান করছে।'
ভোলা থেকে আসা গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, 'পরিবার নিয়ে এই প্রথমবার কক্সবাজারে এলাম। ভিড় অনেক, তবুও আনন্দটা অন্যরকম। সাগরের ঢেউ আর পরিবেশ সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।'
রাঙ্গামাটি থেকে আসা শিক্ষার্থী তাজনিন ইসলাম বলেন, 'বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। ভিড় থাকলেও নিরাপত্তা ভালো। রাতে সৈকতে বসে সময় কাটানোটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে।'
রাজশাহী থেকে আসা আশিক রহমান বলেন, 'ঈদের দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে তেমন ঘোরাঘুরি করতে পারিনি। তবে আজকের আবহাওয়া দারুণ। পরিবারের সঙ্গে সময়টা খুব উপভোগ করছি।'
এত বিপুল পর্যটক সমাগমের মধ্যেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে 'সি-সেইফ লাইফগার্ড' সংস্থা।
সংস্থাটির প্রজেক্ট অফিসার ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, 'এখন প্রতিদিন একলাখের বেশি পর্যটক সমুদ্রে নামছেন। অথচ নিরাপত্তায় রয়েছে মাত্র ২৭ জন কর্মী। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।'
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সদা সক্রিয় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহেদ হোসেন জানান, সৈকত এলাকা, হোটেল-মোটেল জোন ও আশপাশের বিনোদনকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ সদস্যরা।
তিনি বলেন, 'মূল সৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী সমুদ্র সৈকত, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির এবং ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। তবে, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।'
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮