মোঃ মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অর্থের বিনিময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসৎ কর্মচারী পূনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দিয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে ৯ নং ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের মেসার্স মদিনা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচার নামক একটি ইটভাটায়।অনুসন্ধানে জানা গেছে এই ইটভাটার মালিক আমির হোসেন ডিপজল ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে চলতি বছর এই বিদ্যুৎ সংযোগ নেন রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে। এর আগে ৮ এপ্রিল ২০২৫ সালে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ভাটার বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় বিধি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপশি ভাটার চিমনি ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এমনটি ঘটে।
জানা যায়, ইটভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩(সংশোধিত ২০১৯) বিধান অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। লাইন্সেসবিহীন ভাটায় সংযোগ দেওয়া বে-আইনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসার্স মদিনা ম্যানুফ্যাকচার ইটভাটার মালিক আমির হোসেন ডিপজল বিগত ৮ বছর যাবত বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন ও সেনাবাহিনী, থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ভাটাটি চিমনি ভেঙ্গে ও ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ভাটার মালিক বিদ্যুৎ পূর্ণসংযোগ নিয়ে আবার ভাটা চালু করেন। চলতি বছর নতুন ভাবে ট্রান্সফর্মার, বিদ্যুতের খুঁটি বসিয়ে ভোল্টেজ বৃদ্ধি করেন।
রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান সোবহান জানান, মেসার্স মদিনা ম্যানুফ্যাকচার ব্রিকস ইটভাটার মালিক আমির হোসেন ডিপজলকে তার ইটভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও ভোল্টেজ বৃদ্ধি করতে ১৭ লক্ষ টাকা লাগছে। এর মধ্যে সে অফিসে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকী টাকায় তিনি ট্রান্সফর্মার, খুঁটি, অটো সুইচসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করেছেন। আমি শুধু ইলেকট্রিক কাজ করেছি। অফিস তাঁকে কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে সেটা আমার জানা নেই।
মেসার্স মদিনা ম্যানুফ্যাকচার ব্রিকস ইটভাটার ম্যানেজার স্বপন জানান, এ বছর ভাটায় ইট তৈরিতে অটো মেশিন চালু করা হয়েছে। বিদ্যুতের অফিসের লোকজন এসে বিদ্যুৎ লাইনে ভোল্টেজ বৃদ্ধিসহ বিদ্যুতের সকল সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে তবে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটা আমার জানা নাই।
মেসার্স মদিনা ম্যানুফ্যাকচার ব্রিকস ইটভাটার মালিক আমির হোসেন ডিপজলকে কয়েকবার মোবাইল করলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার(এজিএম ) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। কোন অবৈধ ইটভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিধি নেই। যদি অফিস থেকে সংযোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত বিধি মেনে দিয়েছেন। বিষয়টি ডিজিএম ভালোভাবে বলতে পারবেন।
রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ শাহীন রেজা ফরাজি ছুটিতে থাকায় এবং মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া বে-আইনি। মেসার্স মদিনা ইটভাটাটির দীর্ঘদিন থেকে বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। গত বছর অভিযান পরিচালনা করে ইটভাটাটি ভেঙ্গে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তারপরও কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তা বিদ্যুৎ বিভাগ বলতে পারবে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিরি জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) মোঃ শফিউল আলম জানান, ইটভাটার কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিভাবে রামগঞ্জের ডিজিএম বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন, সেটা তিনি বলতে পারবেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮