
শওকত আলম, কক্সবাজার:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় হোস্ট শিক্ষকদের বিনা কারণে চাকুরীচ্যুত করার প্রতিবাদে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে নেমেছেন শিক্ষকরা।
চাকুরীচ্যুত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এবং যথাযথ কারণ না দেখিয়ে হঠাৎ করেই তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।
এক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। হঠাৎ করে আমাদের চাকরিচ্যুত করা অন্যায় ও অমানবিক। আমরা অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।”
এসময় কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার সাইফুদ্দীন শাহীন উপস্থিত হয়ে অনশনরত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের প্রতি অন্যায় আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায়সংগত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
অন্যদিকে স্থানীয় মানুষেরাও চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রমে অবদান রাখা এসব শিক্ষক হঠাৎ চাকরি হারালে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পুরো সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে। তারা বলছে, “শিক্ষা কার্যক্রমে স্থানীয় হোস্ট শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ মানবাধিকারের পরিপন্থী।”
শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

























