ইসরাত জাহান প্রিয়ানা,নিউট্রিশন এন্ড ডায়েট কনসালটেন্ট
কুরবানির ঈদ মানেই পরিবারের সকলের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে পছন্দের খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত থাকা। তবে এই সময় অতিরিক্ত রেড মিট গ্রহণ অনেকের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন আছে, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ বা উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড রয়েছে তাদের জন্য অতিরিক্ত রেড মিট গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।তবে রেড মিট পরিমিত পরিমাণে গ্রহণে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা যায় সুন্দরভাবে।
এক্ষেত্রে রেড মিট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং সঠিক পরিমাণ, সঠিক রান্নার পদ্ধতি এবং উপযুক্ত খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মার্ট চয়েজ।
রেড মিটে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি-১২ থাকলেও এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও পিউরিনও থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা,কোষ্ঠকাঠিন্য, ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি ও ওজন বাড়ার ঝুঁকি/ওবেসিটির মত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই একবারে অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি অর্থাৎ পোরশন কনট্রোল করা।আধুনিক রিসার্চ অনুযায়ী,রেড মিটের কোলেস্টেরল আমাদের দেহে তেমন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।কিন্তু আপনি কোন খাবারের সাথে,কি পরিমানে গ্রহণ করছেন বা আপনার জীবনযাত্রার ধরণ ছাড়াও রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের উপর স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ভর করে।
সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রান্না করা মাংস ৬০–৯০ গ্রাম বা হাতের তালু পরিমাণ যথেষ্ট হতে পারে দৈনিক।রেড মিট খাওয়ার সময় প্লেটের অর্ধেক অংশজুড়ে রাখা যেতে পারে সালাদ ও আঁশযুক্ত সবজি। শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস, পেঁপে, লাউ, ঝিঙা বা শাকজাতীয় খাবার হজমে সহায়তা করে এবং অতিরিক্ত ফ্যাটের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। এতে সহজে তৃপ্তি আসে।এছাড়া লেবু ও ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার আয়রন শোষণেও বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখে।
মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি সফট ড্রিংক বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে পানি, লেবুর শরবত, মাঠা,টক দই ভালো বিকল্প হতে পারে।
রেড মিট রান্নার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। অতিরিক্ত তেল বা ডুবো তেলে রান্না, চর্বি ও ঝাল-মসলাযুক্ত রান্নার বদলে কম তেলে রান্না করা, গ্রিল, সেদ্ধ বা পাতলা ঝোল জাতীয় রান্না তুলনামূলক ভালো। মাংস রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও কমানো সম্ভব হয়।
অনেকে আবার ঈদের দিনে সকালে না খেয়ে শুধু মাংসজাতীয় খাবার খেতে শুরু করেন, যা গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও ব্লোটিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দিনের শুরুতে ব্রেকফাস্টে হালকা ও আঁশযুক্ত খাবার যেমন ওটস, ফল, দই বা চিড়া রাখা যেতে পারে।অর্থাৎ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্য।
মনে রাখবেন- পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, সবজি /সালাদ ও পানি গ্রহণ বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর রান্নার মাধ্যমে রেড মিটও হতে পারে একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
ইসরাত জাহান প্রিয়ানা
ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং
হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮