প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৬, ২০২৬, ২:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৬, ২০২৬, ১২:০২ পি.এম

মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি,
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাবো বিশ্বরোড, রূপসী, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ আঞ্চলিক সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তুপ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, তারাবোসহ ঘাটে ঘাটে ময়লার স্তুপ পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে উঠা শিল্প কারখানা এবং হাট-বাজারের বর্জ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ দেয়ায় পঁচা দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। মহসড়কে চলাচল ও খেয়া ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারের সময় পথচারীদের নাকে মুখে রুমাল ধরতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া বাজার, তারাবো বাজার, হাটাবো বাজার, বেলদী বাজার, শিমুলিয়া বাজার, তারাবো পৌরসভা ও কাঞ্চন পৌরসভাসহ শিল্প কারখানা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। এসব শিল্পকারখানা, হাট-বাজার ও পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত জায়গা না থাকায় সরাসরি নদীর তীরবর্তী খেয়া ঘাটের পাশে স্তুপ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মুড়াপাড়া বাজার খেয়াঘাট ও কাঞ্চন বাজারের পৌর পার্কের পাশের নদীর ঘাটে ময়লার পাহাড় জমেছে।
প্রতিদিন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও বাজারের ময়লা সংগ্রহ করে ভ্যানের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়াঘাটে ফেলে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্পট না থাকায় নদীর খেয়াঘাটে ফেলা এসব আবর্জনা বৃষ্টিতে ধুয়ে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। তাতে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়ক ও খেয়াঘাটের পাশের এই বর্জ্য দুর্ভোগের প্রধান শিকার হচ্ছে কোমলমতি স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। নাকে মুখে রুমাল চেপে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে আবর্জনার সঙ্গে কাদাপানি মিলে দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলছে। ময়লা ও দূষিত পানিতে নদীতে গোসল করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন ময়লা ফেলায় সারাক্ষণ উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। আবর্জনার স্তুপে কুকুরের ঘাঁটাঘাঁটি করার কারণে দুর্গন্ধ আরো বাড়ছে। উপদ্রব হচ্ছে মশার। এসব আবর্জনা অপসারণে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না। এতে আশপাশের বাসিন্দারা দুর্ভোগ সহ্য করেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়াঘাট ও মহাসড়কের গোলাকান্দাইল এলাকার আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পঁচা ও উচ্ছিষ্ট খাবার, কলার কাঁদি, নারকেল ও সুপারির বাকল, পরিত্যক্ত বস্তা, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসেরে খালি প্যাকেট, বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, হাট-বাজারের, গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য। সেই ময়লায় আশেপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। নদীর তীরের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়ছেন। নদীর গতিপথও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থেকে মশা-মাছি নানা জীবানু ছড়াচ্ছে।
এসব ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছে নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি ও যাত্রীরা। কাঁচা বাজারের বর্জ্যে তৈরি হওয়া মশা মাছির জীবাণু শাকসবজি ও মাছ মাংসে মিশছে। কাঞ্চন পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও ময়লার দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়ছে।
শিল্পকারখানা ও হাট-বাজারের বর্জ্যে শীতলক্ষ্যার পানি হচ্ছে দূষিত। আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। চর্ম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও জ্বরে ভুগছে নদীর তীরবর্তী জনসাধারণ।
কাঞ্চন বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় বাসা বাড়ি এবং বাজারের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলে এই দূষণ হতো না।
কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া এলাকার শিক্ষক এনামুল হক সিকদার বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় স্থানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, ময়লা আবর্জনা থেকে ভাইরাসজনিত নানা ধরণের রোগের সৃষ্টি হয়। ময়লা-আবর্জনার গ্যাসে শ্বাসনালির সমস্যা, চোখে জ্বালা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
কাঞ্চন পৌর প্রশাসক ও রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, কাঞ্চন পৌরসভায় ময়লা ড্রাম্পিং করার জন্য কোন স্টেশন বা গ্রাউন্ড নেই। তাতে পঁচা দুর্গন্ধ আর ময়লা আবর্জনায় দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। অবিলম্বে ময়লা ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
তারাবো পৌর প্রশাসক ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, তারাবো পৌরসভায় ময়লা ডাম্পিং ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তবে নদীর ঘাটে ময়লার স্তুপ দেয়া উচিত নয়। সকলকে আরো সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনীয় স্থানে ময়লার আরো ডাম্পিং ব্যবস্থা করতে হবে।