প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬, ১২:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৬, ৮:৪৯ পি.এম

মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু(ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা(দাঁড়িপাল্লা) ব্যস্ত সময় পার করছেন। চায়ের দোকান, হাট-বাজারসহ সকল স্থানে ঘুরে-ফিরে আসছে ভোট প্রসঙ্গ। এলাকার উন্নয়ন ও নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তারা। মাইকিং স্লোগান, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও পথসভায় গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত পর্যন্ত সরব ছিলপ্রার্থীরা। রূপগঞ্জে আওয়ামী, তরুণ, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটাররাই পাল্টে দিবেন নির্বাচনী সমীকরণ।
এদিকে গত ৪ফেব্রুয়ারি পূর্বাচল উপশহরের ১০নম্বর সেক্টরের হাড়ারবাড়ি এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুকে সমর্থন জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
গত ৫ফেব্রুয়ারি গোলাকান্দাইল বিএনপির নির্বাচনী অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের হাতে ধানের শীষের প্রতিক তুলে দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত বিজিএমইএ’র সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান গত ৬ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক ভোটের এলাকা তারাবো পৌরসভার বিভিন্নস্থানে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সঙ্গে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট ভিক্ষা করে দলীয় কোন্দল নিরসন করেছেন। এর পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একাট্টা হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ ইমদাদুল্লাহ হাশেমী(হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির মোঃ মনিরুজ্জামান চন্দন(কাস্তে), ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মোঃ রেহান আফজাল(আপেল) ধীরগতিতে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী গ্রাম থেকে গ্রামে ও একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গণসংযোগ করে ছুটে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে চার দলীয় জোটের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী জয়লাভ করেন। বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু এবারই দলের প্রথম মনোনয়ন পেয়েছেন। তার চাচা সুলতানউদ্দীন ভুঁইয়া নয় বছর সংসদ সদস্য ছিলেন। আরেক চাচা ও দুই চাচাতো ভাই ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার পিতা মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাদের শিল্পকারখানায় ১০ সহস্রাধিক শ্রমিক কর্মচারী চাকরি করেছেন। ১৯৫২সালে প্রতিষ্ঠিত তাদের মালিকানাধীন কালীগঞ্জের মসলিন কটন মিলে রূপগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকরি করেন। ভুলতা গাউছিয়া কাপড়ের পাইকারি মার্কেটে পাঁচ সহস্ত্রাধিক দোকান মালিক ও বিপুল সংখ্যক কর্মচারী রয়েছেন।
১৭বছর বয়সে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু পিতার নামে ১৯৯৫সালে গোলাকান্দাইল মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পিতা মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া ১৯৭৯সালে দিপু ভুঁইয়ার দাদীর নামে রূপগঞ্জের নারী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেই হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু পরিচিত মুখ। এছাড়া আওয়ামীলীগের সময় হামলা ও বহু মামলার আসামী দিপু ভুঁইয়া ভোটারদের কাছে পরীক্ষিত নেতা। তাকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় জোট বেঁধে গণসংযোগ করছেন।
দেশ স্বাধীনের পর জামায়াতে ইসলামী এ আসনে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আসতে না পরলেও এবারের অবস্থা ভিন্ন। জামায়াতে ইসলাম আসনটি দখলে নিতে দিন-রাত নিরবে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তারা দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ করছেন। মসজিদে মসজিদে নামাজ পড়ে মুসুল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করছেন। জামায়াতের নারীকর্মীরা নারী ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। নারী ভোটার জামায়াতের বাড়তি সুবিধার আশায় কাজ করছেন।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের মধ্যে ততই বাড়ছে অস্বস্তি। তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে চায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। প্রবাসী ও চাকুরিজীবীদের পোস্টাল ভোটে বদলে দিতে পারে জয়-পরাজয়ের হিসাব।
সংখ্যালঘু, আওয়ামীলীগ, নতুন ও নারী ভোটারদের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কাও কম নয়। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও আওয়ামী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও ভোটের সমীকরণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে উঠেনি। মাঠে প্রচার-প্রচারণা জোরধার হলেও প্রার্থীদের ভেতরে অস্বস্তি বিরাজ করছে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা বিপুল সংখ্যক তরুণ ও তরুণী এবার প্রথমবারের মতো ভোট অধিকার প্রয়োগ করবেন। দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-ই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেকারণে প্রার্থীরা দিন-রাত পাড়া- মহল্লায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তান ও ভাই-বোনসহ আত্নীয়-স্বজনরাও বসে নেই। ভোটকেন্দ্রবিমুখ হওয়া নারীরাও পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান আরা বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি না রেখে জাতীয় স্বার্থে সকল জায়গায় সম্পৃক্ত করতে হবে। নারীদের প্রতিশ্রুতি যিনি আদায় করতে পারবেন তিনিই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রূপগঞ্জ আসনে দুইটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে ২লাখ ৭হাজার ৮৪৯ জন পুরুষ ও ২লাখ ৯৭৭ জন নারী ও ৩জন হিজরা ভোটারসহ মোট ৪লাখ ৮হাজার ৮২৯ জন ভোটার রয়েছে। ১২৯টি ভোট কেন্দ্রে ৭৬৩ ভোট কক্ষ রয়েছে। মোট সাত জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জন প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ ইমদাদুল্লাহ হাশেমী(হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির মোঃ মনিরুজ্জামান চন্দন(কাস্তে), ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মোঃ রেহান আফজাল(আপেল) ধীরগতিতে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন।