মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি,
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকা ফের হকারদের দখলে চলে গেছে। সড়কের দুই পাশে কাঁচাবাজার, মাছ, সবজি, কাপড়, জুতা ও ফলের পসরা সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা করছেন। বিভিন্ন ধরণের পণ্য কেউ কেউ ভ্যানগাড়িতে বিক্রি করছেন। এ কারণে যান চলাচলের জন্য জায়গা থাকে খুবই কম। মহাসড়ক এখন সরু পথে পরিণত হয়েছে। তাতে যানজট পোহাতে হয় দূরপাল্লার যানবাহনকে। হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রূপগঞ্জের ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই মহাসড়ক অবৈধ দখলদারদের দখলে। সাওঘাট থেকে ভুলতা পর্যন্ত মহাসড়কের একপাশে কাঁচাবাজার ও অপর পাশে কাপড়, জুতা, ফলের দোকানদারদের দখলেই থাকে। ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ফ্লাইওভারের নিচে প্রতিনিয়ত বসছে কলা, ডাব ও আখ বিক্রেতাদের শতাধিক ভাসমান দোকান। মহাসড়ক জুড়ে অরক্ষিত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়াও মহাসড়ক জুড়ে পিকআপ ভ্যান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকারের একাধিক স্ট্যান্ড রয়েছে। ফলে যানজট নিরসন করা যাচ্ছে না। ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় উল্টো পথে সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলের কারণেও নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কের নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা বা বাজার বসা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু সড়কের ওপর ও সড়ক ঘেঁষে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চাঁদাবাজদের দখলে রয়েছে।
ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় ফুটপাত ও মহাসড়কের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে রয়েছে। এতে প্রতিদিনই তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। গোলাকান্দাইল মফিজ প্লাজা থেকে গাউছিয়া মার্কেট ও রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসে শত শত ভাসমান দোকান।
মহাসড়ক দখল করে নতুন দোকান বসাতে অগ্রিম ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং পরিচ্ছন্নতার খরচের কথা বলে প্রতিদিন অবৈধ দখলদারদের ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও কেন ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত হচ্ছে না এবং এই অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পেছনে কারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন গত বছর দুই-তিন দফা ও এবছর মার্চ-এপ্রিল মাসে আরো দুই-তিন দফা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে। কিন্তু উচ্ছেদেরে কয়েকদিন পরেই আবার মহাসড়ক বেদখল হয়ে পড়ে। বছরের অধিকাংশ সময়ই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা থেকে বরপা ও রূপসী পর্যন্ত অসহনীয় যানজট থাকে। এছাড়া ফুটপাত হকাররা দখল করে দোকানপাট বসিয়ে রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলায় যানজটের কারণ বলেও অনেকে মনে করছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অবৈধ দখলদারদের কয়েক দফা উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর অবৈধ দখলদাররা মহাসড়ক দখলে ফের প্রতিযোগিতায় নামে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে নতুন যোগদান করেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তার কিছু দিন পরেই মহাসড়কের উভয় দিকে এক কিলোমিটার জুড়ে হকারদের ফের দখলে চলে যায়। গতমাসে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক যোগদান করা পর এখনো মহাসড়কের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সে কারণে দখলদাররা যেন মহাসড়ক দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক বেদখল হওয়া কারো কাম্য নয়। যে কেনো মূল্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সড়ক চলাচলের উপযোগী করে তুলতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি করলে অবশ্যই এ সড়কের পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলের পথ সুগম হবে।
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে। মহাসড়কের প্রসস্থকরণের কাজ শেষ হলে যানজট থাকবে না। হাইওয়ে পুলিশ সবসময় পথচারী ও যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে এখান থেকে অন্যত্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরিয়ে নিতে পারলে যানজট নিরসন সহজ হতো।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, গত মাসে আমি এখানে যোগদান করেছি। জনদুর্ভোগ নিরসনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে ইতিমধ্যে আমি সরেজমিনে চার দিন পরিদর্শন করেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। মহাসড়ক দখলদারদের উচ্ছেদ করতে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে। কঠোরভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, বিএনপি জনকল্যাণে সব সময় নিয়োজিত। জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসন করে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন করতে হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮