এস এম রনি, স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আদুরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হিফজ বিভাগের সহকারী শিক্ষক হোসাইনের বিরুদ্ধে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদে এলাকাবাসী দাবি করেন, অভিযুক্ত হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। অতীতেও একাধিক অভিযোগ উঠলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এবারের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং এলাকাবাসী সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদে নেমে আসে। এলাকাবাসীর দাবি,
হোসাইনকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করা এবং মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট সাইফুল ইসলাম সিরাজীর পদত্যাগ।
তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা
নির্যাতিত শিশুর চিকিৎসা ও সুরক্ষার পূর্ণ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসাইন, যুবদল নেতা সুমন হোসাইন, নাহিদসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, “এই ঘটনা শুধু একটি শিশুর ওপর নৃশংসতা নয়, বরং পুরো সমাজের মূল্যবোধে আঘাত। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
সুমন হোসাইন বলেন, “আমাদের গ্রামে কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ শিক্ষালয় তৈরি করতে হবে। বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটার পরেও কর্তৃপক্ষ চুপ কেন? আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই। প্রয়োজনে এই আন্দোলন আমরা আরও জোরদার করবো।”
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, মাদ্রাসার সুপার সাইফুল ইসলাম সিরাজী বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, যার কারণে পূর্বের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮