মোঃ মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানী, অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস ঘুরেও সংযোগ পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি, অবৈধ ইটভাটা ও বহুতল ভবনের মালিকরা দ্রুত সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি সুবিধা পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের তার সংকট, ট্রান্সফরমার বরাদ্দ নেই, নতুন মিটার সংকট, অনলাইন জটিলতা কিংবা জমির খতিয়ান সংক্রান্ত নানা অজুহাত দেখিয়ে আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। অথচ গোপন চুক্তির মাধ্যমে কিছু গ্রাহক দ্রুত সংযোগ পাচ্ছেন।
আশারকোটা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন জানান, গত ৪ মে ২০২৫ তারিখে অনলাইনে আবেদন করে এখনো সংযোগ পাননি। জমির খতিয়ানে পিতার নাম থাকায় তার আবেদন আটকে আছে বলে জানানো হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন পৌরসভার কর্মচারী পিন্টু, আরিছপুরের মাকসুদুর রহমান, আগুনখীলের মোস্তাক আহম্মেদ, রতনপুরের মাহাবুবুর রহমানসহ অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত ১২টি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি, যদিও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা বারবার অফিসে যোগাযোগ করেছেন।
এছাড়া পৌর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল, কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় সংযোগের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পরও দুই বছরেও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়নি। কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৯৮ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পরও এখনো সংযোগ মেলেনি। অথচ পাশের একটি নতুন ভবন অল্প সময়েই বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশে বিচ্ছিন্ন করা একটি ইটভাটায় পুনরায় অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে নিয়মের বাইরে ট্রান্সফরমার স্থাপনের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান অভিযোগ করেন, প্রতি মিটার অনুমোদনে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হয়। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা সমঝোতার প্রয়োজন হয় বলেও দাবি তাদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জোনাল অফিসের ওয়ারিং ইন্সপেক্টর শিমুল বড়ুয়া বলেন, “গ্রাহকরা অনলাইনে আবেদন করলে সিরিয়াল অনুযায়ী মিটার দেওয়া হচ্ছে, এখানে কোনো অনিয়ম নেই।”
ডিজিএম শাহীন রেজা ফরাজী জানান, বরাদ্দ সংকট ও গ্রাহকদের শর্ত পূরণ না করার কারণেই অনেক আবেদন ঝুলে আছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের ১২টির মধ্যে ৬টি সংযোগ ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮