প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৮, ২০২৪, ৮:৩৭ এ.এম
রামগঞ্জে ফসলি জমির টপসয়েল হরিলুট আইনের তোয়াক্কা করছেন না কেউই।।

মোঃমাসুদ রানা
রামগঞ্জ লক্ষ্মীপুর।।
কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার একর ফসলি জমির টপ সয়েল কাটায় চলছে মহোৎসব। আর এসব টপ সয়েলের মাটি বহনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ দানবীয় চাকার ট্রলি।
এক শ্রেণির মাটিখেকো এসব ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটা মালিকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
ভূমি আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভূমি ও মাটি দস্যুরা ফসলি ও আবাদী জমি থেকে মাটি কাটার ফলে হাজার হাজার জমি এখন পুকুর ডোবা ও নালায় সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের পর মাঠ বিলিন হয়ে গেছে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করতে গিয়ে। কিছু কিছু জায়গায় জমির প্রকৃত মালিকদের অনুমতি না নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর পূর্বক মাটি আনা নেয়ার ফলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকগণ।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার নিচহরা, বাঁশঘর, রাঘবপুর, শ্রীরামপুর, ভাদুর, কেথুড়ী, সমেষপুর, রাজারামপুর, ভোলাকোট, ভাটরা, নোয়াগাঁও এলাকার বেশিরভাগ কৃষি মাঠে চলছে টপ সয়েল কাটার মহোৎসব। বেশিরভাগ ফসলি জমি এখন পুকুরে সয়লাভ।
এছাড়া একই উপজেলার নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, করপাড়া, দরবেশপুর, লামচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একই চিত্র।
নির্বিচারে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে জমিগুলো যেমন উর্বরতা হারাচ্ছে। তেমনিভাবে চাষাবাদের অনুপযোগী হচ্ছে হাজার হাজার একর কৃষি জমি।
দানবীয় চাকার ট্রলি দিয়ে মাটি আনা নেয়া করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙ্গে একাকার। প্রচুর ধুলোবালির কারনে সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করা বেশ কষ্টকর এলাকাবাসীর।
আবু মোঃ সালেহ, ফারুক আহম্মেদসহ বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক জানান, সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টপ সয়েল কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রচার হলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের পর সাময়িক বন্ধ হলেও ফের চালু হয় টপ সয়েল কাটা। দিনে রাতে প্রতিযোগিতা দিয়ে কাটা হয় ফসলি জমির মাটি। গভীর রাতে শত শত ট্রলি নামে মাঠে। ভেকু মেশিন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে শত শত একর জমি মুহুর্তে গভীর গর্তে পরিনত হয়।
কয়েকজন চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব এলাকা এখন মাদকে সয়লাভ । মাদকের পাশাপাশি এখন মাটির ব্যবসা জমজমাট। প্রকাশ্যে মাটি বিক্রি করে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করা হলেও কারো যেন কিছুই করার নেই।
রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, একবার টপসয়েল-জমির উপরিভাগের মাটি-কাটার ফলে তা পূরণ হতে লাগে বছরের পর বছর। দশমিক এক শতাংশ টপসয়েল জমতেও লাগে বেশ কয়েক বছর। সেখানে ১০-১২ ইঞ্চি টপসয়েল কেটে নিলে জমির উর্বরা শক্তি থাকেনা বললেই চলে। জমির উর্বরা শক্তি না থাকায় জমিতে ফসল ফলে কম, সারসহ জৈব পদার্থ তৈরি হতে কৃষকের খরচ হয় কয়েকগুন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ সারমিন ইসলাম জানান, আমরা অভিযানে বের হই। আর তার আগেই মাটি ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমজীবি বা শ্রমিক ছাড়া কাউকে পাই না। গত কয়েকদিন আগে সঞ্জয় কুমার নামের এক ব্যক্তি সরকারি ও ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দেয়ায় ছয়মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২