
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহি জিয়া শপিং কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করে রামগঞ্জ শপিং কমপ্লেক্স নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করায় উপজেলাব্যপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় দেখা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। অনেকেই এ মার্কেট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তবে বেশ কয়েকজন সচেতন মানুষ মনে করেন, যেহেতু মার্কেটটি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। সেহেতু আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ শাহজাহানের ছেলে ইমতিয়াজ আরাফাতকে বিতর্কিত করে নির্বাচন প্রার্থীতার বিষয় ভীন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি মহল।
জানা যায় আজ মঙ্গলবার ভোরে কে বা কাহারা রামগঞ্জ জিয়া শপিং কমপ্লেক্স সাইনবোর্ডটির স্থলে রামগঞ্জ শপিং কমপ্লেক্স নামক সাইনবোর্ড স্থাপন করে। উক্ত মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ও বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা আজ মঙ্গলবার সকালে জিয়া শপিং কমপ্লেক্স মার্কেটের ডাকবাংলা মসজিদ সংলগ্ন গেইটের সামনে এসে হতবাক হয়ে যান। এসময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে যান এমন নোংরা কার্যক্রম দেখে।
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চড়িয়ে পড়লে জেলাব্যপি দেখা দেয়া তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়।
রাকিবুল হাসান নামের একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, সাইনবোর্ড থেকে মুছে ফেলছেন কিন্তু যে নাম রামগঞ্জবাসীর হৃদয়ে আছে ঐটা কিভাবে মুছবেন।
আমানুল্লাহ খাঁন ফারাবি নামের একজন লিখেছেন, সাধারণ মানুষ রামগঞ্জ জিয়া শপিং বলে ডাকবে, চিনবে, হাজার চেষ্টা করলেও ভুলাবে কিভাবে।
মোহাম্মদ রুবেল লিখেছেন, নোংরামির একটা লিমিট থাকা উচিত, রামগঞ্জের মানুষ এটাকে জিয়া শপিং নামেই চিনবে।
আবু সালমান নামের একজন মোবাইল ফোনে জানান, আগামী নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ শাহাজাহান সাহেবের ছেলে ইমতিয়াজ আরাফাত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। হটাৎ করেই জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জিয়া শপিং কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন ষড়যন্ত্র হতে পারে। এসময় তিনি আরো জানান, একটি মহল চায় না ইমতিয়াজ আরাফাত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। পুরো দায়ভার এখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উপরে বর্তাবে এবং আগামী উপজেলা নির্বাচনে এ বিষয়টি ব্যপক প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা যায় প্রায় ১৭ বছর পুর্বে রামগঞ্জ আসনের সাবেক সাংসদ ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে সাবেক ডাক বাংলোর জমিতে স্থাপন করেন জিয়া শপিং কমপ্লেক্স। উক্ত মার্কেটের নীচতলা ও প্রথমতলায় ১৭১টি দোকান স্থাপন করেন। এছাড়া মার্কেটের তৃতীয়তলায় নির্মাণ করেন আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার। কয়েকশত মানুষের ব্যবসা ও সহশ্রাধীক কর্মী উক্ত মার্কেট কেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
সারাদেশে জিয়া শপিং কমপ্লেক্স নামটি ব্যপক পরিচিত এবং লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ, রায়পুর, চাটখিল, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মাঝে জনপ্রিয় একটি নাম। জিয়া শপিং কমপ্লেক্স নামটি পরিবর্তন করায় সর্বমহলে তীব্র নিন্দা দেখা দিয়েছে।

























