চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,
আগে ছিলেন আওয়ামী লীগে। গত জুলাইয়ের পর রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপি নেতা। এখন আবার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নাম ভাঙিয়ে চালাচ্ছেন চাঁদাবাজি। পেশিশক্তি ও হুমকির মুখে আদায় করছেন মোটা অঙ্কের টাকা। অথবা বাস্তবে এদের কারোরই শ্রমিক দলে কোনো পদ-পদবি নেই। পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এই ভুঁইফোড় চক্রটির বিরুদ্ধে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দাপট দেখিয়ে তারা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের নেতারা এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগ রয়েছে, ‘বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকা যান পরিবহন ফেডারেশন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করছেন জহির উদ্দিন ও মো. শিপন নামের দুই ব্যক্তি। তাদের চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিশেষ করে বিআরটিএর কর্মকর্তারা। পরিবহনের নানা কাল্পনিক ইস্যু তৈরি করে কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেল করা হয়। পরে অনৈতিক সুবিধা বা টাকা পাওয়ার বিনিময়ে বিষয়গুলো মেটানোর ইঙ্গিত দেয় চক্রটি।
শ্রমিক দলের নেতারা জানান, এই চক্রটির নেপথ্যে রয়েছেন পতিত সরকারের আমলের শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম খোকন।
৫ আগস্টের আগে এই সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন পলাতক সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম। তখন দারুল ফজল মার্কেটের আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে এটি পরিচালিত হতো। পটপরিবর্তনের পর কাজীর দেউড়ি এলাকায় অফিস সরিয়ে তারা শ্রমিক দলের নামে অপকর্ম শুরু করেছে। তবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের স্পষ্ট বক্তব্য, এরা শ্রমিক দলের কেউ নন, এরা মূলত ‘আওয়ামী শ্রমিক’।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার এক বিবৃতিতে জানান, এই চক্রের সদস্যরা মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার আহ্বান জানান।
পেশাজীবী নেতারা যা বলছেন
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও কর্মকর্তাদের হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম। সংগঠনের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি ও সদস্যসচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী এক বিবৃতিতে এই ভুঁইফোড় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮