
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় অবস্থিত কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিবিজড়িত জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগার পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নে অবস্থিত জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগারে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। এ সময় ইউএনও রিফাত আরা মৌরি কবি জীবনানন্দ দাশ ও ধানসিঁড়ি নদীর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে গভর্নরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমদ মাসুদ ও পরিচালক মো. আবুল বাশারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। কবি জীবনানন্দ দাশের পাঠাগারে কিছু দেখতে না পেয়ে এবং নদীটি ছোট হওয়ায় হতাশ হয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পাঠাগারের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। নদী ভরাট হয়ে ছোট হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, কবি জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণের প্রায় ৭০ বছর পর তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পিংড়ি এলাকায় ধানসিঁড়ি নদীর তীরে দুই কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগারের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
কবি জীবনানন্দ দাশ কেন বারবার ধানসিঁড়ির কাছে ছুটে আসতে চাইতেন—এর পেছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক কারণ। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কলকাতা সিটি কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং জীবনের শেষ আট বছর কলকাতাতেই কাটান। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে কলকাতা যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল নদীপথ। বরিশাল থেকে স্টিমারে খুলনা যেতে হতো, আর সেই যাত্রাপথে ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি নদী ও গাবখান চ্যানেল অতিক্রম করতে হতো। এই নদীপথেই কবির সঙ্গে ধানসিঁড়ির এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা তাঁর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে। ধানসিঁড়ি নদী তাই শুধু একটি নদী নয়—এটি কবি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য ও অনুভূতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
























