চঞ্চল,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু (এমপি) বলেছেন, “ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে ভিজিএফ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অনেক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়। আমরা এবার অনেক আগে বরাদ্দ পাঠিয়েছি কারণ এটাকে খুব ক্লোজ মনিটরিং করতে হবে। কোনো প্রকার দুর্নীতি, ওজনে ঘাটতি বা স্বজনপ্রীতি মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের ইউনিয়নগুলোতে একদিনে বিতরণ না করে নিজেদের তদারকিতে প্রয়োজনে দুই-তিন দিন সময় নিয়ে ইউনিয়ন ভাগ করে বিতরণের তদারকি করার পরামর্শ দেন।
রংপুর বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রংপুরের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু (এমপি) সরকারি কর্মকর্তাদের জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রংপুরের যে জেলাগুলো রয়েছে যেমন— কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও রংপুর; এই জেলাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কী কাজগুলো করা প্রয়োজন রয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়াও আপনাদের বিভাগে কোন কোন প্রকল্পগুলো এই পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত হয়নি আপনারা সেটা জানেন। সেগুলো আমাদের বললে আমি সেই প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পগুলো হয়তো অন্যত্র হচ্ছে কিন্তু সঠিক নেতৃত্বের অভাবে জেলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আপনারা আমাকে জানাবেন। আপনারা সব জেলা থেকে আমার সাথে কথা বলতে পারবেন। আমার সাথে যোগাযোগ রাখবেন। আপনাদের প্রশাসনিক বা অন্যান্য কোনো সমস্যা হলে আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা যেহেতু কর্মরত আছেন সেহেতু আপনারা বুঝতে পারবেন যে, কোন জেলায় কোন কাজটি জরুরি। সড়কের কোনটা জরুরি, কোথায় ব্রিজ-কালভার্টের প্রয়োজন আছে, কোথায় স্কুলের প্রয়োজন আছে, কোথায় হাসপাতালের কী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে— যাবতীয় বিষয়গুলো যেই মন্ত্রণালয়েরই হোক না কেন, সেগুলো আপনারা আমার নোটিশে নিয়ে আসবেন। আপনারা যদি আমার সাথে দূরত্ব রাখেন তাহলে আমি কিন্তু কাজ করতে পারব না। এক্ষেত্রে আমি অন্ধকারে থাকব। তাই আমাকে বলতে হবে।”
এরপর তিনি সার ও কীটনাশক যেন নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয় সেটা ক্লোজ মনিটরিং করা এবং প্রতিটি সরকারি সেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। রংপুর বিভাগ নদীভাঙন ও শীতপ্রবণ এলাকা হওয়ায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আসাদুল হাবিব দুলু পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা। পাশাপাশি মাদক নির্মূল করা ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোন ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী রংপুরের বীর শহীদ আবু সাইদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আবু সাইদের সঙ্গে যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।”
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম (এনডিসি)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮