
ক্রাইম রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ সদরের লতিফাবাদ রোডে অবস্থিত ‘মায়াকানন পার্ক থিম পার্ক ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সেই অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হলেন স্থানীয় সাংবাদিক। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার হন।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার সন্ধ্যায়। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে পার্কে প্রবেশ করেন। মৌখিক অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকলেও নিরাপত্তাকর্মীরা বাঁশি বাজিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন।
এরপর সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় পার্কের পরিচালক তানভীর হাসানের কাছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। এমনকি পার্কের মূল ফটক বন্ধ করে তাকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
সাংবাদিকে অবরুদ্ধ রাখার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিষয়টি কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুনকে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে একটি পুলিশ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ সাংবাদিককে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে থানার এসআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ এখনো দায়ের করা হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—“পার্কের ভেতরে এমন কী কার্যক্রম চলছিল, যা গণমাধ্যমের চোখে ধরা পড়লে ভয় ছিল?”
তারা মায়াকানন পার্কের কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের দ্রুত পদক্ষেপ ও সাহসিক ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রশ্ন রয়ে গেল—
মায়াকানন পার্ক কি সত্যিই শুধু বিনোদনের কেন্দ্র, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অপকর্ম?